নিউজ ডেস্ক: ধরে আনার বদলে কষে বেঁধে আনার অবস্থা! ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রাম অ্যাপ বন্ধ। নিট ইউজি-র পরীক্ষার জন্য কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্তে ভারতে টেলিগ্রামের প্রায় ৫ কোটি ব্যবহারকারী বিপাকে।
ভারত সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় প্রশ্নফাঁস ও প্রতারণার অভিযোগে দেশজুড়ে টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ বা ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞায় সরাসরি কোনো আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ সরকারিভাবে প্রকাশ করা না হলেও, এর ফলে ১৫ কোটিরও বেশি ভারতীয় ব্যবহারকারী বিপাকে পড়েছেন এবং বিপুল সংখ্যক ক্রিপ্টো গেম ও ওয়েবথ্রি (Web3) কমিউনিটির কাজ থমকে গেছে।
ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন টেলিগ্রামের উপর এই নিষেধাজ্ঞাকে একটি ‘জোড়াতালি দেওয়া সমাধান’ এবং ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ প্রতিক্রিয়া বলে অভিহিত করেছে। পরীক্ষা জালিয়াতি রোধের জন্য পুরো টেলিগ্রাম পরিষেবা বন্ধ থাকলেও যে জালিয়াতদের অন্য পন্থা রোখা যাবে এমন কেনাও নিশ্চয়তা নেই।
টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও পাভেল দুরভ ভারত সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ‘এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে।’
‘ট্যাপ-টু-আর্ন’ ক্রিপ্টো গেম এবং টেলিগ্রাম-ভিত্তিক ওয়েবথ্রি অ্যাপগুলো এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেকের ব্যবসা, চ্যানেল ও কমিউনিটি টেলিগ্রামের উপর নির্ভরশীল, তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি বা আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়েছে।
ডিজিটাল অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। সাধারণ ইন্টারনেট অধিকারকর্মীদের মতে, পুরো প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত প্রকৃত অপরাধীদের ধরার পরিবর্তে সাধারণ ব্যবহারকারীদেরই বেশি ভোগান্তিতে ফেলে।
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ নিট ইউজি পরীক্ষা পরিচালনা করে। তাদের তরফে আরও জানানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভারতীয় সাইবার ক্রাইম কোর্ডিনেশন সেন্টার (I4C)-এর সহায়তায় টেলিগ্রামে প্রতারণা এবং ভুয়ো প্রচারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। নিট প্রশ্ন দেওয়ার নামে প্রতারণাকারী বহু চ্যানেল, গ্রুপ ও বট ইতিমধ্যেই সরানো হয়েছে। পরীক্ষার দিন বায়ুসেনার বিমানে বিভিন্ন জায়গায় প্রশ্নপত্র যাবে বলে মঙ্গলবারই ট্রায়াল হয়েছে। কারণ গত মে মাসে প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী নিট পরীক্ষায় বসেছিলেন। এরপর প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসায় সেই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। আগামী ২১ জুন ফের নিট পরীক্ষা হতে চলেছে। তার আগে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে কেন্দ্র সরকার। প্রশ্নপত্র আগেই বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। তাতে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ যুক্তদের একাংশকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ২১ জুন পরীক্ষার আগে পর্যন্ত এবার প্রশ্নপত্রের কাজে যুক্ত অফিসারদের আইসোলেসনে রাখা হয়েছে। তাঁদের ইন্টারনেট ও যথেচ্ছ ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এতো বজ্র আঁটুনিতেও ফস্কা গেরো হবে না তো?
Prev Post