নিউজ ডেস্ক: গোটা বিশ্বের নজর এখন শুক্রবারের দিকে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবশেষে শান্তিচুক্তি হতে চলেছে ইরান-আমেরিকার মাঝে। চুক্তির পরই আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে যাবে হরমুজ প্রণালী। হরমুজ প্রণালী ঘিরে মার্কিন অবরোধও তুলে নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে এই চুক্তির কথা ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান। পরে আমেরিকা এবং ইরান দুপক্ষই তা নিশ্চিত করেছে। সমাজমাধ্যমে চুক্তির কথা ঘোষণা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, সবাইকে অভিনন্দন।
তবে শান্তিসমঝোতায় ইরানকে কোনও আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে না, স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ট্রাম্প। শান্তি সমঝোতায় ইরানকে কোনও আর্থিক সাহায্যে দেবে না আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এবার পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করেছিল ইজরায়েল এবং আমেরিকা। ট্রাম্পের দাবি ছিল, ইরানের সামরিক শক্তি নির্মূল করে দেবেন। পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করে দেবেন। ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ভেঙে ফেলা হবে। সেখাকার মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পাবেন। ইরানে হামলার শুরুর দিকে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ‘চার থেকে পাঁচ সপ্তাহে’ লক্ষ্যপূরণ করবে আমেরিকা।
কিন্তু হরমুজের জল মাপতে ভুল করেছিলেন ট্রাম্প। হরমুজের জলে যে ‘হাবুডুবু’ খেতে হবে, সেটা বোঝেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলার পরই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ করেছিল ইরান। হরমুজ প্রণালীতে মাইন বিছিয়ে প্রায় সব দেশের জাহাজের চলাচল বন্ধ করে দেয় খামেইনির দেশ। তিন মাস কেটে গেলেও ইরানকে থামানো যায়নি। ইরানে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছেন। মার্কিন সেনার ১৩ জন সদস্যও মারা গিয়েছেন।
চুক্তিতে কী কী শর্ত থাকবে তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি চুক্তিতে পাঁচটি দিক থাকবে।
প্রথমত, ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে ইরানকে। ওই জলপথ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা হবে।
দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার পরিবর্তে ইরানের উপর চাপিয়ে রাখা অর্থনৈতিক বিধিনিষেধগুলি সহজ করবে আমেরিকা। চুক্তির পর তুলে নেওয়া হবে ইরানের তেল সংক্রান্ত যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা।
তৃতীয়ত, সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারে আমেরিকা এবং ইরান। চলতি সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি করা হতে পারে।
চতুর্থত, ইরানের ইউরেনিয়াম ভান্ডার এবং পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আলোচিত হতে পারে। তবে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত কোনও সমঝোতা এখনই সম্ভব নয়।
পঞ্চমত, পশ্চিম এশিয়া থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহার সমঝোতার অন্যতম বড় শর্ত হতে চলেছে। এটা না-করলে ইরান কোনও আলোচনায় বসতে রাজি হবে না।