সই জাল-কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য, মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকের পর বহিষ্কৃত ঋতব্রত, সন্দীপন

111,276

নিউজ ডেস্ক: বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। ইতিমধ্যেই সিআইডিকে তদন্তভার দিয়েছে রাজ্য সরকার। সোমবার দুপুরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে। তার ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে। শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কাছে বিষয়টি আসার পরেই তিনি সিআইডি-কে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন এতে স্পিকার বা রাজ্য সরকার কোনও ভাবেই জড়িত নয়। কারণ অভিযোগ করেছেন তৃণমূলেরই ২ বিধায়ক। তবে সই জালকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই তৃণমূল উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপনকে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করে। নিয়ম অনুযায়ী, এই দুই বিধায়ক ‘দলহীন’ হিসাবে থাকবেন। বহিষ্কারের পর সন্দীপন বলেন, ‘যারা অনৈতিক কাজ করে, দল তাদের সমর্থন করে। আর যারা নৈতিক কাজ করে, তাদের বহিষ্কার করে। আমরা তো জানতামই না, একটা হাজিরা খাতার সইকে প্রস্তাবের সই বলে চালানো হবে।’

সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের চিঠি তৃণমূলের।

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, তা নিয়ে যথেষ্টই বেকায়দায় তৃণমূল। প্রসঙ্গত ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর ৬ মে কালীঘাটের বাড়িতে তৃণমূলের জয়ী বিধায়কদের বৈঠকে ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সূত্রের খবর পরিষদীয় দলনেতা, উপ দলনেতা এবং মুখ্যসচেতক ঠিক করার অধিকার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের উপরই ছেড়ে দেন তৃণমূল বিধায়করা। তারপর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার কথা ঘোষণা করে তৃণমূল। সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু নিয়ম অনুসারে পরিষদীয় দলনেতা বা অন্য পদাধিকারীর নির্বাচন পরিষদীয়দলের বৈঠকেই করতে হয়। তা না হওয়ায় তৃণমূলের আবেদন গৃহীত হয়নি। অভিষেকের চিঠি প্রত্যাখ্যান করেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু।

ফলে ফের ১৯ মে কালীঘাটে ফের যে বৈঠক হয়, সেখানে পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করানো হয় বিধায়কদের। আর এখানেই অনুপস্থিত বিধায়কদের সই জালের অভিযোগ করে স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তৃণমূলেরই ২ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। সই-কাণ্ড নিয়ে তদন্তে নেমে সিআইডি ১৪ জন বিধায়কের মধ্যে ১৩ জনকে ইতিমধ্যেই নোটিশ দিয়েছে। বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন চৌরঙ্গীর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার কুণাল ঘোষ, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলাম সহ আরও অনেকে। এদিকে সই-কাণ্ডে সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছিল সিআইডি। কিন্তু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সোমবার অভিষেক হাজিরা দেননি।

এই রেজলিউশন বইয়ে সই নিয়েই বিতর্ক।