দলের দৈনন্দিন খরচের টাকা তুলতে পারবে তৃণমূল, স্পেশাল অফিসারের সাম্মানিক ১.২৫ লাখ দিতে হবে কালীঘাট তৃণমূলকেই

45

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় এবার সাময়িক স্বস্তি। দৈনন্দিন তৃণমূলের যে খরচ সেটা আপাতত চালাতে পারবেন তাঁরা। ‌ তৃণমূলের দৈনন্দিন খরচের কথা চিন্তা করে অন্তর্বর্তী নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, “আদালত চিন্তাভাবনা করে এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিচ্ছে। এই মামলায় স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে। অনুমতি দিচ্ছে দুজন সিগনেটারি অথরিটি ৩টে একাউন্টের চেক পাঠাবেন নব নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের কাছে। ‌ এরপর স্পেশাল অফিসার তাতে সই করবেন। চেক চলে যাবে ব্যাংকে। ওই চেক ব্যাঙ্ক এনক্যাশ করবে।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের তরফ থেকে। ‌ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব সামলাবেন । ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা মাসিক পারিশ্রমিক দিতে হবে সুব্রত তালুকদারকে। স্পেশাল অফিসার কে এই সাম্মানিক দেবে কালীঘাট তৃণমূল শিবির।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের আর‌ও পর্যবেক্ষণ ” অ্যাকাউন্ট যে ফ্রিজ করা হয়েছে, তার আগে পুলিশ কিছু নথি সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু সেই নথি দেখে আমি সন্তুষ্ট নই। এই ঘটনায় তিন বিধায়কের বয়ান নেওয়া হয়েছে। ৭ জন বিধায়ক ৭ রকম অভিযোগ জানিয়েছেন। ৪ঠা মে- অর্থাৎ ফল ঘোষণার আগে বিধানসভা নির্বাচন বাবদ সেইখান থেকে টাকা নেন অভিযোগকারী বিধায়কেরা। অভিযোগকারী তৃণমূল যদি “আসল তৃণমূল” হয়, তাহলেও বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন নির্বাচন কমিশনের কাছে।।

আজ কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতের সওয়াল করেন ” সংবিধান সব রাজনৈতিক দলকেই সমান অধিকার দেওয়ার কথা বলে। এরকম ঘটনা রাজনীতিতে আগে কখনো হয়নি। ১৮ই জুন অভিযোগ, ১৯ জুন একাউন্ট ফ্রিজ। ৮টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছেন অভিযোগকারী বিধায়কেরা। ‌ জয়ী এবং পরাজিত ভোটের পার্থক্য মাত্র ৪ শতাংশ। এই অভিযোগ শুধুমাত্রই অনুমান ভিত্তিক। কোন যুক্তি নেই অভিযোগের পেছনে। এই পদক্ষেপ করার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে রাজনৈতিক দলকে পুরোপুরি দমিয়ে রাখার জন্য।”

অভিষেক মনু সিংভি আরো জানান এই অ্যাকাউন্ট থেকেই ভোটের খরচ বাবদ ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েছে ঋতব্রত পন্থী তৃণমূল শিবির।

পাল্টা ঋতব্রতপন্থী শিবিরের আইনজীবী কে পরমেশ্বরের দাবি ” আমরাই আসল তৃণমূল। কোন অংশ নেই । যা অভিষেক মনু সিংভি বলতে চাইছেন”

সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানান, ” ওই বিধায়কদের অভিযোগের তিনদিন আগে ব্যাংক একাউন্ট থেকে বড় অ্যামাউন্টের টাকা সরানো হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তিন জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।

এজি, সুরজিৎ নাথ মিত্রর স‌ওয়াল – ” ২১৫ জন কর্মীর চলমান মাসের বেতন বকেয়া ৫১ লক্ষ টাকা। তাঁর নথি কই? একটাও নথি নেই কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত। একাউন্টের টাকা কোন উৎস থেকে আসছে? লেনদেনের যাবতীয় তথ্য কোথায়? তিন দিন আগে কিসের জন্য বড় অ্যামাউন্ট এর টাকা সরানো হল?

বিচারপতি সরকারপক্ষের কাছে প্রশ্ন করেন, ‘‘১৮ জুন সন্ধে ৬টা অভিযোগ। ১৯ জুন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ আগে কোন কোন নথি, তথ্য ছিল?’’

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশাল অফিসার নিযুক্ত করার কথা বলেন। তাতে সবপক্ষ মত দেন। নিয়োগ করা হয় স্পেশাল অফিসার। এখন থেকে স্পেশাল অফিসারের নজরদারিতেই দৈনন্দিন খরচ চালানো টাকা তুলতে পারবে তৃণমূল।