সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের এবারের নিবেদন বন্দেমাতরম

40

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার বা লেবুতলার পুজো মানেই প্রতি বছর বড় চমক। থিম থেকে প্রতিমায় থাকে দারুণ অভিনবত্ব। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের এবারের নিবেদন, সনাতনী চেতনায়, বন্দে মাতরম – দেশমাতৃকার চরণে প্রণাম। ৯১ বছরে পদার্পণ করেছে এই পুজো। ১৯৩৬ সাল‌ থেকে শুরু হয়েছিল পথ চলা।

১৫০ বছরে পদার্পণ করেছে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী গান ‘বন্দে মাতরম’ । শুধুমাত্র সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার নয়, রাজ্যের একাধিক নামী পুজো কমিটির থিমের মূল বিষয় এই ঐতিহাসিক গান। তবে প্রতিটা কমিটি এই গানকে নিয়ে এক এক রকম ভাবনা ভেবেছেন। প্রথম সারির তালিকায় রয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। এই পুজোর মূল উদ্যোক্তা সজল ঘোষ।‌

প্রতিবছরই এই পুজো কোন‌ও না কোন‌ও বার্তা বহন করে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। তৎকালীন সরকারের আমলে এই পুজোকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। তবে দেশভক্তি ও জাতীয়তাবাদ এই শব্দগুলো বললেই সবার আগে উঠে আসে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের নাম। মণ্ডপে বন্দে মাতরমের মাহাত্ম্য ফুটিয়ে তোলা হবে। পাশাপাশি এই মন্ত্র জপে যাঁদের ফাঁসি হয়েছে সেই সব শহীদদের কথাও উল্লেখ থাকবে সমগ্র মণ্ডপ জুড়ে। দেশভাগ, স্বাধীনতার জন্য কত মানুষের কত পরিশ্রম , কত করুণ কাহিনী রয়েছে তাও ফুটিয়ে তোলা হবে মণ্ডপে। অন্যান্য বছর ভিজুয়ালি অনেক কিছু ফুটে উঠত। তবে এবার, উদ্যোক্তাদের ভাবনা একটু অন্যরকম।

স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা মহাত্মা গান্ধীর নাম সকলের জানা। কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টালে আরো এরম অনেক নাম প্রকাশ্যে আসবে যা নিয়ে খুব একটা চর্চা হয় না। এবার সেই সমস্ত মনীষীদের উপস্থাপন করবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার।

লালকেল্লার আদলে তৈরি হয়েছে মন্ডপ। প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই পৌঁছে গিয়েছে প্রতিমা। ‌মণ্ডপে থাকবে আলোর চমক।

এই সাবেকি পুজোর মণ্ডপ ও প্রতিমা উদ্বোধন করতে এসেছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। এ বছরেও সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের উদ্বোধনে থাকতে পারে বড় চমক। এখন দেখার উদ্বোধন থেকে বিসর্জন, কী কী চমক দেখাবেন সন্তোষ মিত্র স্কয়ারের পুজো উদ্যোক্তারা।