ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে মাইলেজ কমবে

35

নিউজ ডেস্ক: অবশেষে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক মেনে নিল ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (ই-২০) কিছু গাড়ির ক্ষেত্রে মাইলেজ ৩-৫ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে। যদিও মন্ত্রকের পক্ষে বলা হয়েছে, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারে বহু ইতিবাচক প্রভাব আছে। এতে গাড়ির পিক আপ আরও উন্নত হবে। একইসঙ্গে ইঞ্জিন আরও ভালোভাবে কাজ করবে এবং গাড়ির গতিও বৃদ্ধি করা যাবে।


পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, ই-১০ বা বিশুদ্ধ পেট্রলের তুলনায় উচ্চমানের জ্বালানি ই-২০। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর, গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করে এবং দেশে ইথানলের উৎপাদন বৃদ্ধির পরেই এই জ্বালানি চালু করা হয়েছে। তবে মন্ত্রক স্পষ্ট করে দিয়েছে, ই-২০ জ্বালানির দাম যে সাধারণ পেট্রলের চেয়ে সবসময় কম না হতেও পারে। ইথানল এমন একটি মূল্যে সংগ্রহ করা হয় যা কৃষকদের জন্য লাভজনক।


মন্ত্রকের ব্যাখ্যা, পেট্রল পাম্পে জ্বালানির দাম কমানো ইথানল কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য নয়। মূল্য উদ্দেশ্য হল, বিদেশ থেকে আমদানি করা অশোধিত তেলের উপর ভারতের নির্ভরতা কমানো। একই সঙ্গে জ্বালানির দামে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জ্বালানিখাতে দেশের খরচ কমানোও এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০০১ সালে ইথানল মিশ্রণের পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছিল। তার পরে ২০০৬ সালের মধ্যে দেশের বেশ কিছু জায়গায় ৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি চালু হয়। ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশে জ্বালানিতে ইথানল মিশ্রণের হার ১.৫ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। তার পরে ২০১৮ সালে কেন্দ্রে জৈব-জ্বালানি নীতি দেশে ইথানলের উৎপাদনে গতি আনে। এর ফলে ২০২২ সালেই ১০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে ভারত।


ই-২০ নিয়ে মারুতি সুজুকি এবং হিরো মোটোকর্পের জানিয়েছে, যে গাড়িগুলিতে ই-২০ ব্যবহার হয়েছে, তাতে জ্বালানিজনিত কারণে কোনও ক্ষয় দেখা যায়নি। যন্ত্রাংশের আয়ু কমে যাওয়ার মতো কোনও সমস্যাও দেখা যায়নি।


ই-২০ জ্বালানি ব্যবহারের পক্ষে সরব হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক-পরিবহণ মন্ত্রী নীতীন গডকড়ি। অথচ জ্বালানি তাঁর মন্ত্রকের বিষয় নয়। বিরোধীদের অভিযোগ, গডকড়ির ছেলের ইথানল প্রস্তুতকারী সংস্থা আছে, সেজন্যই গডকরি এর পক্ষে।


কংগ্রেসের অভিযোগ, দেশে ৩৬ হাজার দুচাকা ও চার চাকার গাড়ি আছে। সরকারি নীতির খেসারত এরা কেন দেবে? অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, খাঁটি পেট্রল ও ই-২০ জ্বালানি ব্যবহারের অধিকার কেন থাকবে না গাড়িমালিকের?