প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি বিজেপির

30

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত বিজেপির। যার মূল কথা হল নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছরের জনসেবা পূর্তির উৎসব। বুধবার জানিয়েছেন বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন।
বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন বুধবার ঘোষণা করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনেসবায় ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতীয় জনতা পার্টি মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ শুরু করবে।
নবীন বলেছেন, এই কর্মসূচি ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে এক মাস পর অক্টোবরে শেষ হবে। উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ হবে।
বিজেপি মোট ১২টি বিভাগে জনসংযোগ কর্মসূচি গ্রহণ করবে। এই কর্মসূচির মধ্যে থাকবে যুবসমাজকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ক্রিয়াকলাপ এবং একটি জাতীয় অনুষ্ঠান, যেখানে গ্রামপ্রধান স্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী সরাসরি মতবিনিময় করবেন।
১৭ সেপ্টেম্বর মোদীর জন্মদিন সেবা দিবস হিসেবে পালন করার লক্ষ্যে রক্তদান শিবিরের মাধ্যমে এই জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু হবে। এ ছাড়া, ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলের কর্মী এবং এনডিএ সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা তাঁদের বাড়িতে প্রদীপ জ্বালাবেন।
নবীন বলেন, ৭ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসেবা ও নিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্ণ হবে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মেয়াদ শুরু করেছিলেন। গত ২৫ বছরে জনসেবা থেকে দেশসেবা মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি অবিচলভাবে সেবার এই যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। এইসঙ্গে নীতিন যোগ করেন, জনসেবার এই বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি।

নীতিন বলেন, গোটা দেশের স্কুলগুলিতে মোদীর ২৫ বছরের জনজীবনের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও নাটকের পাশাপাশি, ‘সেবা কি কাহানি’ কর্মসূচির আওতায় মানুষকে সোশাল মিডিয়ায় এমন সব বিষয়বস্তু শেয়ার করতে উৎসাহ দেওয়া হবে যা দেখাবে কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর শাসনব্যবস্থা তাদের জীবন বদলে দিয়েছে।
এই জনসংযোগ কর্মসূচির মধ্যে আরও থাকবে মোদীর জন্মস্থান গুজরাটের ভাদনগর থেকে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে বাইক র্যা লি, মানব-বন্ধন প্রতিযোগিতা এবং তরুণ, শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ, পেশাজীবী ও কর্পোরেট উদ্ভাবকদের নিয়ে সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ। এতে জাতীয় কল্যাণ ও নীতি-নির্ধারণ সংক্রান্ত সবচেয়ে উদ্ভাবনী ধারণার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।
বিজেপি সভাপতি বলেন, তিনি যখন দেশের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন ভারত নীতি-সংক্রান্ত স্থবিরতায় ন্যুব্জ ছিল এবং ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ বা ভঙ্গুর অর্থনীতির অন্যতম একটি দেশ হিসেবে বিবেচিত হত। আজ ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি। বিশ্বমঞ্চে ভারতের মর্যাদা ও অবস্থানও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রত্যেক ভারতীয় মর্যাদার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে এবং একইসঙ্গে দেশ নকশালবাদ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।
রাম মন্দির থেকে কাশী বিশ্বনাথ— দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের জন্য মোদী কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন নীতিন। তিনি গুজরাটে মোদীর সেই যাত্রাপথের কথাও তুলে ধরেন, যেখানে নর্মদা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং ভাইব্র্যান্ট গুজরাট-এর মাধ্যমে গুজরাটকে বৃদ্ধি ও বিনিয়োগের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল।
বিজেপি সভাপতি বলেন, গুজরাটের বৃদ্ধি উন্নয়নের এমন এক মডেলে পরিণত হয়েছিল যা অন্য রাজ্যগুলোর জন্যও আকাঙ্ক্ষার বিষয় হয়ে ওঠে। এক সময় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোকে ভারতের শেষ গ্রাম হিসেবে অভিহিত করা হত। নরেন্দ্র মোদী সেই ধারণা বদলে দিয়ে সেগুলোকে ভারতের প্রথম গ্রাম হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এটি কেবল তাদের জীবনকেই বদলে দেয়নি, বরং এই জনপদগুলোর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তন করেছে।