ক্ষতিপূরণের দাবিতে মহাসড়ক প্রকল্পে জট হারাঙ্গাজাওয়ে

27

নিউজ ডেস্ক: ক্ষতিপূরণের জটলিতায় ব্যাহত অসমের ডিমা হাসাও জেলায় চার-লেনের জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণের কাজ। প্রকল্পের জন্য অধিগৃহীত জমি, বাগান এবং বসতবাড়ির বকেয়া ক্ষতিপূরণ এখনও পাননি বাসিন্দারা। এরকম পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন হারাঙ্গাজাওয়ে।
এই মহাসড়ক প্রকল্পের ফলে শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রিপোর্ট একটি সমীক্ষায়। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দুবছর ধরে ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি পরিবার এখনও ক্ষতিপূরণ পায়নি।
জাটিঙ্গা-হারাঙ্গাজাও অংশের নির্মাণকাজ যখন সমাপ্তির পথে, ঠিক তখনই এই বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ২৫ আগস্ট এই অংশের দুটি লেন আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে, ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের বাসিন্দারা পরবর্তী নির্মাণকাজের বিরোধিতা করছেন।
৩১ আগস্ট থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখায়, তাদের দাবি নির্মাণকারী সংস্থা দীনেশচন্দ্র আর. আগরওয়াল ইনফ্রাকন প্রাইভেট লিমিটেড যেন আপাতত কাজ স্থগিত রাখে। এর ফলে গত নয় দিন ধরে ওই অংশে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মঙ্গলবার কাপুরচেরায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন এনএইচএআই কর্তারা। বৈঠক চলাকালে এনএইচএআই কর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের প্রতিনিধিদের কাছে নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। কর্তৃপক্ষ শুরুতে বকেয়া ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়ার জন্য ৪৫ দিন সময় চেয়েছিল, তবে পরে সেই সময়সীমা কমিয়ে ৩০ দিন করার প্রস্তাব দেয়। গ্রামবাসীদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে ৩০ দিনের মধ্যেই বকেয়া ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হবে।
তবে এই আশ্বাস অচলাবস্থা নিরসনে করতে পারেনি। গ্রামের প্রতিনিধিরা বলেছেন যে, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি তারা এককভাবে প্রত্যাহার করতে পারবেন না, কারণ বিষয়টি সরাসরি প্রকল্পের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে জড়িত।
বাসিন্দারা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করে বলেন যে, অতীতের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কোনও অর্থ প্রদান করা হয়নি। তাই কেবল আরেকটি আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে কাজ পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তাঁরা অনীহা প্রকাশ করেন।