শীর্ষ আদালতে তিরস্কার জ্ঞানেশ-কন্যাকে

20

নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টে তিরস্কারের মুখে পড়লেন উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার জেলাশাসক মেধা রূপম। যিনি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকুমার গুপ্তার কন্যা।
এই প্রথম নয়, এর আগে বঙ্গতনয়া আকৃতি চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারা জারি করার জন্যও সুপ্রিম কোর্টে তিরস্কার করেছিল মেধা রূপমকে। শুধু ভর্ৎসনা বা তিরস্কারই নয়, ছাত্রী আকৃতি চৌধুরীকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল মেধা রূপমকে।
জুলাই মাসে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে গ্রেটার নয়ডার এক ছাত্রকে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক মেধা রূপমের নোটিশ পাঠানোর ঘটনায় বুধবার সুপ্রিম কোর্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র ঈষৎ ক্ষুব্ধ হয়ে মন্তব্য করেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করার সাহস হয় কী করে একজন জেলাশাসকের (পড়ুন মেধা রূপমের)? সিজেপি বিক্ষোভের জেরে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত এফআইআর করা এবং ভবিষ্যতে কোনো ছাত্রের বিরুদ্ধে কঠোর বা দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
ক্ষুব্ধ আদালত প্রশ্ন করে, ম্যাজিস্ট্রেট কীভাবে এই নোটিশ জারি করতে পারলেন? আমাদের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে, সারা দেশে কোনও ছাত্রের বিরুদ্ধেই কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের এমন কাজ করার সাহস কী করে হল?
১ সেপ্টেম্বর, সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে তার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সিজেপি বিক্ষোভের জেরে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মামলা বাতিল করেছিল। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, ২০ থেকে ২৫শে জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই বিক্ষোভের ঘটনায় দায়ের করা এফআইআরগুলোর বিষয়ে আর কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা তদন্ত চালানো যাবে না। এবং সেগুলোকে সব দিক থেকে ‘বন্ধ’ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছিল যে, এই বিক্ষোভের ঘটনায় কোনও ছাত্রের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না।
গ্রেটার নয়ডার ওই ছাত্রের বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন প্রবীণ আইনজীবী বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। মামলাকারী ছাত্রকে ৫ লক্ষ জরিমানা করেছিলেন জেলাশাসক মেধা রূপম। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানান যে, ৪ সেপ্টেম্বর ওই ছাত্রকে নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে আদালত গৌতম বুদ্ধ নগর জেলার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ব্যাখ্যা তলব করবে।
আদালতকে জানানো হয়েছে যে, ৪ সেপ্টেম্বর গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অক্ষত ত্রিপাঠীর বিরুদ্ধে জারি করা নোটিস পরদিনই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটিকে ভারতের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হিসেবে অভিহিত করে অক্ষত ত্রিপাঠির আইনজীবী।
প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, আমরা অবাক হচ্ছি যে, একজন জেলাশাসক কীভাবে এমন নোটিস জারি করতে পারেন? ১ সেপ্টেম্বরের আমাদের আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণের জন্য তরুণদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ করা যাবে না।