বাদল অধিবেশনের পর মন্ত্রীসভার রদবদল

37

নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার রদবদল আসন্ন। কিন্তু আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগে সেই রদবদলের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হবে এমাসেই, সম্ভাব্য তারিখ ২০ জুলাই। তারপর প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি বিবেচনায় রাখলে এটা বলা যায় যে মন্ত্রীসভার রদবদল হতে পারে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে।

রদবদলের চেয়ে নীতিতে গুরুত্ব


সংসদে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানো সরকারের অগ্রাধিকার। এর মধ্যে রয়েছে সীমানা পুনর্বিন্যাস এবং এক দেশ এক ভোট বিল। বাদল অধিবেশনের আগে মন্ত্রীসভার রদবদল হলে কেউ কেউ ক্ষুণ্ণ হতে পারে। কেননা এই দুটি বিল পাশ করাতে হলে সরকারকে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন দরকার পড়বে। বাদল অধিবেশনের আগে কোনও পক্ষকেই চটাতে চাইছে না সরকার। বাদল অধিবেশনের পর মন্ত্রীসভার রদবদলের ক্ষেত্রে সরকারের কাছে বিভিন্ন দলের সঙ্গে দর কষাকষির সুযোগ থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফরসূচি

বাদল অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফরসূচি রয়েছে। যার অর্থ মন্ত্রীসভার রদবদলের জন্য বেশি সময় তিনি দিতে পারবেন না। ৩ জুলাই পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত থাকবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দিল্লি সফর নিয়ে। ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর যাওয়ার কথা রাজস্থানে। ৬ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফরে ব্যস্ত থাকবেন নরেন্দ্র মোদী। যার অর্থ বাদল অধিবেশনের আগে একমাত্র ৫ জুলাই সময় পাবেন মোদী। আর ২০ জুলাই বাদল অধিবেশন শুরুর আগে মন্ত্রীসভার রদবদল হলে নতুন মন্ত্রীরা সংসদ অধিবেশনের জন্য প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় পাবেন না। যদিও এর আগে সংসদের অধিবেশনের ঠিক আগে মন্ত্রীসভার রদবদলের নজির আছে। ২০২১ সালের ৭ জুলাই, বাদল অধিবেশনের ঠিক আগে, মন্ত্রীসভায় বড় মাপের রদবদল হয়েছিল। সেবার ১২ মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া হয়েছিল আর নেওয়া হয়েছিল নতুন ৩৬ মন্ত্রীকে।

এর আগে মন্ত্রীসভার রদবদল


গত ১২ বছরে নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রিত্ব কালে ৪ বার মন্ত্রীসভার রদবদল হয়েছে।
নভেম্বর ২০১৪: ২১ মন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। জুলাই ২০১৬: ১৯ মন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত এবং ৫ মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেপ্টেম্বর ২০১৭: ৯ নতুন মন্ত্রী, ৪ মন্ত্রীকে আরও ক্ষমতা এবং ৬ মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। জুলাই ২০২১: ৩৬ নতুন মন্ত্রী এবং ১২ মন্ত্রীকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

মন্ত্রীসভার সাম্ভাব্য খালি আসন

ক্যাবিনেট পর্যায়ে বেশ কয়েকটি জায়গা রয়েছে। সংখ্যালঘু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জর্জ কুরিয়ান পদত্যাগ করেছেন। তাঁর রাজ্যসভা সাংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সংসদের কোনও কক্ষের সদস্য না হয়েও রভনীত সিং বিট্টু মন্ত্রী রয়েছে। তাঁকে সম্ভবত আসন্ন পাঞ্জাব নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। মন্ত্রীসভায় আসতে পারেন সদ্য রাজ্যসভা সাংসদ তরুণ চুঘ। অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীকে উত্তরপ্রদেশ বিজেপির সভাপতি করা হয়েছে এবং আরেক প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা হয়েছেন দিল্লির বিজেপি সভাপতি। বিজেপির ঘোষিত এক ব্যক্তি এক বদ নীতি অনুসরিত হলে এই দুজনকে মন্ত্রীসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। যদিও আগামী বছর উত্তর প্রদেশে নির্বাচনের আগে পঙ্কজ চৌধুরীকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে সেরাজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে কুর্মি জনগোষ্ঠীর মধ্যে। অতীতে পাঞ্জাব ও তেলেঙ্গানার সভাপতি যথাক্রমে বিজয় সম্পালা এবং জি কিষান রেড্ডি মন্ত্রীসভায় ছিলেন।

রদবদলে প্রধান নজর


২১ জুন মন্ত্রীমণ্ডলীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৩০ জুন সব মন্ত্রকের সচিবদের সঙ্গেও বৈঠক করেনমোদী। স্বাভাবিকভাবেই মন্ত্রীসভার রদবদলে কাজের রেকর্ড গুরুত্ব পাবে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের বয়স পঞ্চাশের নীচে। এই ধারা হয়তো দেখা যেতে পারে মন্ত্রীসভার রদবদলে। এখন ৮ মন্ত্রী রয়েছে ৭০-৮০ বছরের ঘরে। তাঁরা ফের মন্ত্রী থাকবেন কি না সেটা দেখার বিষয়। দুই মন্ত্রী, হরদীপ সিং পুরী এবং বিএল ভার্মার রাজ্যসভার মেয়াদ ফুরিয়েছে। এঁদের রেখে দেওয়া হবে কি না সেটা বড় প্রশ্ন। ২০২৯ লোকসভা ভোটের আগে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে আগ্রহী বিজেপি। ক্যাবিনেট পর্যায়ে একমাত্র মহিলা মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সাংসদদের দল পরিবর্তনে বড় ভূমিকা নিয়েছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার ও শতাব্দী রায়। তাঁরা কোনও মন্ত্রক পাবেন কি না সেটা কৌতূহলের বিষয়। আগামী বছর দেশের ৭ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। সেদিকে লক্ষ্য রেখে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সাংসদদের মন্ত্রী করা হতে পারে। এ ছাড়া রয়েছে প্রাক্তন আমলা। ইতিমধ্যেই আরবিআই গভর্নর শক্তিদাস দাসের নাম চর্চায় এসেছে। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওবিসি সমাজ। বর্তমানে গোটা দেশে জনগণনার সঙ্গে জাত গণনা চলছে। মন্ত্রীসভার রদবদলে গুরুত্ব পেতে পারে ওবিসি গোষ্ঠী।