নিউজ ডেস্ক: ভারতের পূর্ব দিকের প্রতিবেশী দেশ থেকে বেআইনি পাচারের নিরাপদ ট্রানজিট রুট হয়ে উঠছে অসম? গত দুদিনে তিনটি বড় মাপের পাচার রুখে দেওয়ার খবর সামনে আসতে এই প্রশ্ন উঠছে।
অসমের বরাক উপত্যকায় কাছার জেলায় আসাম রাইফেলস ও কাছার পুলিশের যৌথ অভিযানে উদ্ধার ৯.৫ কোটি টাকার মাদক। অন্তত ৩০ হাজার নিষিদ্ধ ট্যাবলেট, ৫৩৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারই শুধু নয়, গ্রেফতার করা হয়েছে দুজন মহিলাকে। ধৃত দুই মহিলাই মণিপুরের টামেংলং জেলার বাসিন্দা। দিন কয়েক আগে এই অঞ্চল থেকে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছে।
লংকার গুঁড়োর প্যাকেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল নিষিদ্ধ নেশার ট্যাবলেট। প্রসঙ্গত, নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট প্রধানত উৎপাদিত হয় প্রতিবেশী রাষ্ট্র মায়ানমারে। সেদেশের শান প্রদেশে অত্যন্ত বড় পরিসরে ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরির কারখানা আছে। মায়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ডের ত্রিসীমানাকে বলা হয় গোল্ডেন ট্র্যাঙ্গেল। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চল মাদক চোরাচালানের জন্য কুখ্যাত এবং বর্তমানে এটি সিন্থেটিক মেথঅ্যাম্ফিটামিন বা ইয়াবা তৈরির প্রধান ঘাঁটি। মায়ানমারের অভ্যন্তরে বহু গোপন ল্যাবরেটরিতে এই মাদক তৈরি করা হয়। ইয়াবা ট্যাবলেট মায়ানমার থেকে প্রধানত মণিপুরে আসে। সেখান থেকে অসম হয়ে চলে যায় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে।
এদিকে, আসাম রাইফেলসের সঙ্গে শিলচরের কাস্টমস বিভাগের যৌথ অভিযানে ২.৮ কোটি টাকার বেআইনি বিদেশি সিগারেট উদ্ধার হয়েছে। এগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বরাক উপত্যকার কালাইন থেকে মেঘালয় ও অন্যান্য রাজ্যে। মঙ্গলবার গুয়াহাটির খারঘুলি থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৭ কেজি বিদেশি সোনা। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ কোটি টাকা।
নিষিদ্ধ বিদেশি ট্যাবলেট, বিদেশি সিগারেট, বিদেশি সোনা, হেরোইন উদ্ধার হচ্ছে অসমের যত্রতত্র। মায়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস থেকে নিষিদ্ধ মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে অসমকে। গতকয়েক দশকের উগ্রপন্থী সমস্যা, গোষ্ঠী সংঘর্ষ পেরিয়ে গত কয়েক বছর ধরে অসম শান্ত। গত কয়েক বছরে অসমে বড় কোনও নাশকতার ঘটনা ঘটেনি। একসময় পশ্চিমবঙ্গ এবিষয়ে প্রথম স্থানে ছিল। তখন কোচবিহার-শিলিগুড়ি প্যাসেজ ব্যবহার করা হত নিষিদ্ধ বিদেশি মাদক অন্যান্য রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এখন মায়ানমার-লাওস-থাইল্যান্ড থেকে মণিপুর হয়ে অসমে ঢুকছে বিদেশি নিষিদ্ধ মাদক। মাদক পাচারে ক্রমশ অসমকে সেফ প্যাসেজ হিসেবে ব্যবহার করছে পাচারকারীরা।