নিউজ ডেস্ক: ২৮ মে, বৃহস্পতিবার বকরি ইদ। তবে এবছর বাংলার বিভিন্ন পশুহাটে কার্যত বন্ধ গরু কেনাবেচা। প্রকাশ্যে কোথাও গরুর হাট বসতে দেখা যাচ্ছে না। তার পরিবর্তে ছাগলের বাজার বেশ রমরমা। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর ছাগলের দাম বেড়েছে চার থেকে পাঁচগুণ। দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরাম হাটে সোমবার সকাল থেকেই ছিল ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক ভিড়। হাটে ছাগলের দাম শুরু ১২ হাজার টাকা থেকে। আকারে বড় ছাগলের দাম উঠেছে ২০ হাজার টাকারও বেশি। ফলে বিশ্বনাথ রায় সহ ছাগল বিক্রেতাদের মুখে চওড়া হাসি ফুটলেও সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে পড়েছে বাড়তি চাপ। পতিরাম হাটে সকালের দিকে হাটে ভালো ছাগল কিনতে রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। জমিরউদ্দিন শেখ, ওমর ফারুক সহ বহু ক্রেতারই অভিযোগ,অত্যধিক দামের কারণে শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে তাঁদের। আবার অনেকেই জানিয়েছেন,ইদের দিন সকালে নামাজের পর হাটে এসে পশু কেনার চেষ্টা করবেন।
প্রতি বছর ইদের আগে জেলার বিভিন্ন পশুহাটে উপচে পড়ে ভিড়। বিশেষ করে কুরবানির পশু কিনতে গরুর হাট জমে ওঠে। তবে এবার বঙ্গে পদ্ম ফুল ফোটায় চিত্র একেবারেই আলাদা। উল্লেখ্য তিন দিক সীমান্ত বিস্তৃত দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, বংশীহারী, হিলি, তপন, গঙ্গারামপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় বহুদিন ধরেই পশুহাট বসে আসছে। এতদিন এই সমস্ত হাটে গরু কেনাবেচা ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। স্থানীয়দের দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ, এইসব হাট থেকেই পাচারকারীরা গরু কিনে বাংলাদেশে পাচার করত। ফলে গরুর হাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরু পাচারে কিছুটা হলেও লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে মত স্থানীয়দের একাংশের। যদিও সরকারি ভাবে গরু কেনাবেচা বন্ধের কোনও নির্দেশ জারি হয়নি। তবুও ঠিক কী কারণে হঠাৎ করে বিভিন্ন পশুহাটে গরু বিক্রি বন্ধ হয়ে গেল,তা বুঝে উঠতে পারছেন না রাজকুমার কর্মকারের মতন স্থানীয় হাট ব্যবসায়ীরা। তবে গরু কেনাবেচা বন্ধ হলেও ছাগল বিক্রি করে সেই ক্ষতি সামাল দেওয়া যাবে বলে মত হাট ব্যাবসায়ীদের।