নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা অধিবেশনের তৃতীয় দিন সোমবার প্রত্যাশিতভাবেই পেশ করা হয় বহুচর্চিত UCC বিল। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার হয়ে বিল পেশ করেন সংসদীয় পরিক্রমা মন্ত্রী অতুল বরা। অধিবেশনের অন্তিমদিন বুধবাবার ইউসিসি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
UNIFORM CIVIL CODE বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি হলো ভারতে নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের একটি প্রস্তাব, যা ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের উপর সমানভাবে প্রযোজ্য। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয়ে গেলে অসমে বহুবিবাহ প্রথা বন্ধ হবে। বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে নয়া নিয়ম নির্ধারণ করা হবে। বিবাহ এবং বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে আইনি নীতি নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক হবে।
এখানেই শেষ নয়, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা আনা হবে। অর্থাৎ বাবার সম্পত্তিতে মেয়েদেরও সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। লিভ-টুগেদার বা একত্রবাসের ক্ষেত্রে দম্পতিদের জন্য রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হবে। অর্থাৎ একত্রবাস বৈধতা পাবে কিন্তু জন্ম, মৃত্যু এবং বিবাহের মতো এক্ষেত্রেও রেজিস্ট্রেশন হবে বাধ্যতামূলক। বিল পেশ করতে গিয়ে এমনটাই দাবি করেছেন সংসদীয় পরিক্রমা মন্ত্রী অতুল।
কংগ্রেস, রাইজর দল, তৃণমূল কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি যদিও UNIFORM CIVIL CODE-এর বিরোধিতা করেছে। নতুন বিল নিয়ে আসার আগে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত ছিল বলে দাবি করেছে বিরোধী শিবির। যদিও শাসক দল পুরো বিষয়টি অন্যভাবেই ব্যাখ্যা করতে চাইছে।
দিশপুরের বিধায়ক প্রদ্যুৎ বরদলৈ বলেন, ‘বিধানসভায় বিলটি সবে মাত্র পেশ করা হয়েছে। এরপর এটি নিয়ে আলোচনা হবে, তর্কবিতর্ক হবে তারপরই এটি পাস হবে’।
এদিকে, বিজেপি বিধায়ক তথা বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিশ্বজিত দৈমারির মতে, ‘অসমে ইউসিসি আইন প্রণয়ণ হলে আখেরে ভাল হবে’। কংগ্রেস বিধায়ক রেকিবুদ্দিন আহমেদ যদিও পুরো উল্টোটাই ভাবছেন।
রেকিবুদ্দিনের মতে, ‘এই আইনের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে একটি জাতি-স্বত্বাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে চাইছে বিজেপি।’ যদিও, বিজেপি শাসিত রাজ্যে কখনও শরিয়ৎ আইন চলতে পারে না বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন খোয়াংয়ের বিজেপি বিধায়ক চক্রধর গগৈ। তবে ইউসিসি নিয়ে সোমবার কোনও মন্তব্য করেননি রাইজর দলের বিধায়ক বিধায়ক অখিল গগৈ।
উল্লেখ্য, বিধানসভায় গৃহীত হলে দেশের তৃতীয় রাজ্য হবে অসম, যা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আওতায় চলে আসবে। কারণ উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাটে এই বিলটি আগেই গৃহীত হয়েছে।
ইউসিসি ছাড়াও সোমবার বিধানসভায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। পেশ করা হয় ২০২৪-২৫ সালের ক্যাগের প্রতিবেদন। ক্যাগ প্রতিবেদন পেশ করেন মন্ত্রী অতুল বরা।