SIR পর্বে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রে অনিয়মের অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার ইস্যু করা নথি খতিয়ে দেখবে রাজ্য

24


দেবারতি ঘোষ, কলকাতা: এসআইআর (স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) চলাকালীন কলকাতা পুরসভা থেকে বিপুল সংখ্যক জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র বিলি নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ওই সময় দ্রুততার সঙ্গে ইস্যু হওয়া শংসাপত্রগুলির নথি যাচাই এবং বৈধতা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কলকাতা পুরসভাকে আনুষ্ঠানিক নোটিসও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাতে কলকাতা পুরসভা দ্রুত জন্ম, মৃত্যু এবং ডোমিসাইল সার্টিফিকেট প্রদান করে। সেই নির্দেশের ভিত্তিতে অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছিল বলে প্রশাসনের দাবি। কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাঠানো নোটিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৪ মে, ২০২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত অফলাইনে ইস্যু হওয়া সমস্ত জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র খতিয়ে দেখা হবে। শুধু নথিপত্রই নয়, ওই সময় ইস্যু হওয়া সার্টিফিকেটগুলিও পৃথকভাবে যাচাইয়ের আওতায় আনা হচ্ছে।

প্রশাসনিক মহলের দাবি, এসআইআর চলাকালীন সার্টিফিকেট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোথাও না কোথাও অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। অভিযোগ, নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত নথি হিসেবে এই সার্টিফিকেট ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা হয়েছিল। সেই কারণেই দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নথির যথাযথ যাচাই হয়নি বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রশাসনের অনুমান, জন্ম সাল, জন্ম তারিখ কিংবা ঠিকানার ক্ষেত্রে অসঙ্গতি বা তথ্য বিভ্রাট ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইস্যু হওয়া সমস্ত শংসাপত্র এখন কার্যত রাজ্যের স্ক্যানারে। পাশাপাশি প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, উল্লেখিত সময়ের মধ্যে যে দু’টি পোর্টালের মাধ্যমে নথি যাচাই ও শংসাপত্র ইস্যুর কাজ চলত, সেগুলিও আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, যদিও শংসাপত্র ইস্যুর কাজ করত কলকাতা পুরসভা, তবে গোটা প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ ছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের হাতে। রাজ্যের জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত পোর্টালে নথি যাচাইয়ের পরই কলকাতা পুরসভার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাতে শংসাপত্র পৌঁছে দেওয়া হতো। এদিকে প্রশাসনের একাংশের আশঙ্কা, বহিরাগতদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা বা ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে তৎকালীন তৃণমূল পরিচালিত প্রশাসনের আমলে একাধিক ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙে নথি ইস্যু হয়ে থাকতে পারে। সেই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন মাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।