এনকাউন্টারে খতম মরিকলং ডাকাতির মাস্টারমাইন্ড

13

ভার্গব হাজরিকা, নগাঁও: অসমে ফের এনকাউন্টার। নগাঁও জেলার বরকন্দলিতে পুলিশের গুলিতে নিহত কুখ্যাত ডাকাত খাইরুল আলি ওরফে মণি। নিহত খাইরুলের কাছ থেকে উদ্ধার দুটি গুলির খোল সহ একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল।

সোমবার রাতে নগাঁও পুলিশ বরকন্দলির মিকিরপারে কুখ্যাত ডাকাত দলের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছিল। সেই সময় পুলিশের দলটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল খাইরুল। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে আহত হয় খাইরুল। গুলিবিদ্ধ খাইরুলকে দ্রুত নগাঁও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় খাইরুলের।

মরিকলঙে ডাঃ রঞ্জিত শ‌ইকিয়ার বাড়িতে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির মাস্টামাইন্ড ছিল খাইরুল। ডাকাতিতে বাধা পেয়ে ডাঃ শইকিয়া ও তাঁর স্ত্রী রশ্মিরেখা শইকিয়াকে হিংসাত্মক আক্রমণ করেছিল খাইরুলের নেতৃত্বাধীন ডাকাত দলটি। ডাকাতদের আক্রমণে গুরুতর আহত রশ্মিরেখা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বেশ কয়েকটি ডাকাতির পরিকল্পনা নিয়ে নগাঁও জেলার বরকন্দলির মিকিরপারে ঘাঁটি গেড়েছিল লখিমপুরের খাইরুল। খাইরুল মাস খানেক ধরে ঘাঁটি গেডেছিল নগাঁওয়ের স্টার হোটেলে। হোটেলের ঘরের দৈনিক ভাড়া ৩৫০ টাকা করে দিয়ে যাচ্ছিল সে। তবে, দিনের বেলা হোটেলের ঘরে কাটালেও রাতে সে হোটেলে থাকত না। ঘর ভাড়া নেওয়ার সময় হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল সে নগাঁওয়ে বাইপাসের ধারে একটি ধাবায় কাজ করে। হোটেলের ঘরে প্রায়ই তার সঙ্গে দেখা করতে আসত লিংকম্যান হরিশ শর্মা এবং সতীশ শাহ। পুলিশ ইতিমধ্যেই আটক করেছে হোটেলের রেজিস্টার।

পুলিশ জানিয়েছে, নগাঁওয়ের মরিকলঙে ডাকাতির আগে ৮টি চুরি ও ডাকাতিতে জড়িত ছিল খাইরুল আলি। লখিমপুর এবং বিহপুরিয়ায় দুটি দুঃসাহসিক চুরিতেও সে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে। নগাঁওয়ের স্টার হোটেলে আশ্ৰয় নিয়ে একের পর অপরাধ চালিয়ে গেছে কুখ্যাত অপরাধী খাইরুল। খাইরুলকে ডাকাতিতে সহায়তা করেছে নগাঁওয়ের এক মহিলা। নগাঁওয়ের সেই মহিলার নাম পারবিন, যে কিনা খাইরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী।