ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে, কিন্তু আসছে দূরত্ব! আপনি কি ‘পাফার-ফিশিং’ এর শিকার?

9

নিউজ ডেস্ক: ডেটিং দুনিয়ায় প্রতিদিনই আসছে নতুন নতুন অ্যাপ। ট্রেন্ডিং-এ রয়েছে টিন্ডার, বামবল, বিঞ্জের মতো বিভিন্ন অ্যাপ। জেন জ়ি প্রজন্মের সম্পর্কের ধরন প্রকাশ পায় টিন্ডার, বামবল, বিঞ্জের মতো অ্যাপগুলিতে। অ্যাপ বদলের মতো তাদের সম্পর্কের ধরনও দ্রুত বদলায়। কিন্তু একটার মানে বুঝে ওঠার আগেই হাজির হচ্ছে আরেকটি ট্রেন্ড। এবার সেই ট্রেন্ডেই যোগ হল আরেকটি নতুন শব্দ- ‘পাফার-ফিশিং’। নাম শুনে মাছের কথা মনে হচ্ছে? কিন্তু এর সঙ্গে মাছ বা সমুদ্রের কোন সম্পর্ক নেই। বরং এটি সম্পর্কের জটিল এক মানসিক আচরণের নাম।

কী এই ‘পাফার-ফিশিং’?
সহজ ভাষায়, একটা সম্পর্কে যখন আবেগ বা ঘনিষ্ঠতা বাড়তে শুরু করে, তখন একজন মানুষ যদি হঠাৎ দূরে সরে যেতে শুরু করেন, তাহলে সেই আচরণকে বলা হয় ‘পাফার-ফিশিং’। শুরুতে সবটা হয়তো স্বাভাবিক থাকে কিন্তু সম্পর্ক গভীর হতে শুরু করলে আচমকাই বদলে যায় সেই মানুষটি। কেউ যোগাযোগ কমিয়ে দেন, কেউ আবার কোনও ব্যাখ্যা না দিয়েই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যান।

লেখিকা Kati Morton এই ধারণাটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। বিপদের আশঙ্কা পেলেই সমুদ্রের পাফার ফিশ যেমন নিজের দেহ ফুলিয়ে কাঁটাযুক্ত বলের মতো শক্ত করে তোলে, ঠিক তেমন ভাবেই কিছু মানুষ সম্পর্কের অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতাকে ভয় পেয়ে নিজেদের চারপাশে এক অদৃশ্য দেওয়াল গড়ে তোলেন।

এই আচরণ কীভাবে বুঝবেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরুতে এই ধরনের মানুষদের চেনা বেশ কঠিন। প্রথমটায় তাঁরা অত্যন্ত যত্নশীল, রোম্যান্টিক ও আবেগপ্রবণ হন। অথচ সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হতে শুরু করলেই তাঁদের আচরণে বদল আসে। এক সময় খুব কাছাকাছি আসতে চাইলেও, পর মুহূর্তেই তাঁরা দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করেন। সম্পর্ক গভীর হয়ে উঠলে সঙ্গীর ছোট ছোট খুঁত চোখে পড়তে থাকে। আবেগপ্রবণ ঘনিষ্ঠতা থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। জরুরি আলোচনা এড়িয়ে যাওয়া, হঠাৎ চুপ করে যাওয়া বা কোনও কারণ ছাড়াই হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার মতো প্রবণতাও দেখা যায়। আবার কিছুদিন পর তাঁরা এমন ভাবে ফিরে আসেন, যেন কিছুই হয়নি। এই ‘ঠাণ্ডা-গরম’ আচরণই ‘পাফার-ফিশিং’-এর অন্যতম বড় লক্ষণ।

এমন আচরণের পিছনে কারণ?
মনোবিদদের মতে, অনেক সময় শৈশবে পাওয়া কোন গভীর মানসিক আঘাত বা অবহেলা এইধরনের আচরণের নেপথ্যে থাকতে পারে। ফলে অনেক সময়ই তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়। সম্পর্ক গভীর হলেই তাঁদের মনে হতে থাকে, তাঁরা হয়তো ট্র্যাপে পড়েছেন বা নিজের স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলছেন। কাউকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে না পারার একটা প্রবণতা তাঁদের মধ্যে কাজ করে।

এর থেকে কীভাবে পরিত্রাণ পাবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা এই ধরনের আচরণের শিকার তাঁদের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ না করে বরং দূরত্ব সৃষ্টি করার পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করা উচিত। কারণ কাউকে সরাসরি ‘খারাপ’ বলে দাগিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। সম্পর্কে পারসোনাল স্পেস চাওয়া বা কিছুটা সময় একা থাকতে চাওয়াটা ভুল নয়, বরং স্বাভাবিক। সুস্থ সম্পর্কে মানুষ সাধারণত নিজের প্রয়োজনের কথা সঙ্গীকে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয়। তবে ‘পাফার-ফিশিং’-এর ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হল যোগাযোগের অভাব। হঠাৎ দূরে সরে গেলে বা সঙ্গীকে অনিশ্চয়তায় ফেলে রাখলে, সঙ্গী মানসিক ভাবে ভেঙে পড়তে পারেন। তবে মনোবিদরা বলেন, সম্পর্ককে সুন্দর রাখতে হলে ভয় থেকে না পালিয়ে, একে অন্যের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলাই বুদ্ধিমানের কাজ।