বিশ্বকাপের চূড়ান্ত একাদশঃ এক থেকে এগারো

51

স্পোর্টস ডেস্কঃ স্পেন-ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড। দুটো সেমিফাইনাল বাকি আর বিশ্বকাপের। দুই সেমি, ফাইনাল এবং তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচ সহ চারটি এপিক আর বাকি। এই চারটি ম্যাচ বাকি থাকতে কেমন এগোল ছাব্বিশের বিশ্বকাপ। পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ ফেলা যাক একবার।

(১)
১৯৯২ সালে ফুটবলে প্রথম র‍্যাঙ্কিং নিয়ে এসেছিল ফিফা। ফুটবলে র‍্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর এই প্রথমবার প্রথম চারে থাকা চারটি দল সেমিফাইনাল খেলছে। না, এর আগে কখনও এমনটা ঘটেনি।

(২)
এনিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের চারটি দলই প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন। ইংল্যান্ড (১৯৬৬), স্পেন (২০১০), আর্জেন্টিনা ( ১৯৭৮, ১৯৮৬, ২০২২) এবং ফ্রান্স (১৯৯৮, ২০১৮) এরা সবাই প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন। এর আগে মাত্র দুবার এটা দেখা গিয়েছিল। ১৯৭০ এবং ১৯৯০। প্রথমবার জেতে ব্রাজিল। পরেরবার চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি।

(৩)
বিশ্বকাপের নকআউটে টানা তিন ম্যাচে তিনটি করে গোল করার অতি বিরল নজির গড়ল মেসির আর্জেন্টিনা। সবমিলিয়ে টানা চার ম্যাচে তিনটি বা তার বেশি গোলের রেকর্ডও গড়েছে আর্জেন্টিনা। এই কৃতিত্ব রয়েছে আর একমাত্র ফ্রান্সের। তবে নকআউটে টানা তিন ম্যাচে তিনটি করে গোল করতে পারেনি ফরাসিরাও।

(৪)
এবারের বিশ্বকাপে কর্ণার থেকে তিনটি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। এর আগে একমাত্র ইংল্যান্ড এবং বসনিয়া হারজেগোভিনা এই কৃতিত্ব দেখাতে পেরেছে। গড় উচ্চতার দিক থেকে তৃতীয় বেঁটে (খাটো) দল হিসেবে এই নজির আর্জেন্টিনার। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বকাপের কোনও একটি সংস্করণে সেট পিস থেকে ৫টি গোল করার নজির রয়েছে আর একমাত্র আমেরিকার।

(৫)
লোথার ম্যাথুজ, মিরোস্লাভ ক্লোজে এবং উয়ে সিলারের পর মেসি বিশ্বের চতুর্থ ফুটবলার যিনি বিশ্বকাপের চারটি কোয়ার্টার ফাইনালে চূড়ান্ত একাদশে ছিলেন।

(৬)
বিশ্বকাপে যে ৫টি গোল করেছেন জুলিয়ান আলভারেজ, চার চারটিই নকআউটে করা। এই কৃতিত্বের পর কিংবদন্তী মারাদোনাকে ছুঁয়ে ফেললেন আলভারেজ। নকআউটে সাতটি গোল রয়েছে মেসির।

(৭)
আদিখ্যেতা (প্ল্যা-অ্যাক্ট) জন্য আর্জেন্টিনা ম্যাচে মার্চিং অর্ডার পান স্যুইস ব্রিল অ্যাম্বোলো। বিশ্বকাপের অন্তিম ছয় দশকে চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে অতি লজ্জার এই রেকর্ড গড়লেন অ্যাম্বোলো। এর আগে মেক্সিকান ল্যুই পেরেজ (২০০৬), ঘানার আসামোয়া জ্ঞান (২০০৬) এবং ইতালিয়ান ফ্রান্সেকো তোত্তি (২০০২) এই শাস্তি পেয়েছিলেন।

(৮)
বিশ্বকাপে এবার ৮টি নকআউট ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াল। এর আগে ১৯৯০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপেও এটা ঘটছিল। তবে আগের দুটো বিশ্বকাপে নকআউট ম্যাচের সংখ্যা ছিল ১৫। এবার নকআউট ম্যাচের সংখ্যা ২৮।

(৯)
স্যুইজারল্যান্ড ম্যাচের পর বিশ্বকাপের মেসির গোল অ্যাসিস্টের সংখ্যা পৌঁছে গেল দশে। দশজন আলাদা আলাদা ফুটবলারের সঙ্গে এই নজির গড়েন লিও।

(১০)
বিশ্বকাপের আলাদা দুটি সংস্করণে ১০ বা তার বেশি গোল এবং অ্যাসিস্টের নজির একমাত্র লিওনেল মেসি (২০০২ এবং ২০২৬ এ ১০) আর কিলিয়ান এমবাপের (২০০২ এ ১০, ২০২৬-এ ১১)। গত ৬০ বছরে অন্য কোনও ফুটবলার এটা করে দেখাতে পারেননি।

(১১)
এনিয়ে ১৩ বার বিশ্বকাপের নকআউট কোনও ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। এরমধ্যে ১১ টি ম্যাচই জিততে সক্ষম হয়েছে তাঁরা। জার্মানদের ১২ ম্যাচের রেকর্ড ভেঙে নতুন এই নজর গড়ে আর্জেন্টিনা।