ভারতের আম এই দেশে নিষিদ্ধ! কারণ জানলে অবাক হবেন

21

নিউজ ডেস্ক: আম উৎপাদনে বিশ্বের দরবারে ভারতের নাম সর্বাগ্রে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের মালদার আম তো দেশের সব প্রান্তেই আকর্ষণের কেন্দ্রে। সেই আম এবার নিতে চাইছে না জাপান! গত ২০ বছরে প্রথম এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জাপান সরকারের। কেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত? ভারতের আমে কী এমন হল যে সুস্বাদু মিষ্টি ফলই জাপানের কাছে এতো তেতো লাগছে?

গ্রীষ্মকালীন আমের ভরা মরশুমে আম রফতানিতে জাপানে নিষেধাজ্ঞায় ব্যাহত হয়েছে আলফনসো, কেসার, ল্যাংড়া ও বাঙ্গানাপাল্লির মতো ভারতের উন্নত জাতের আমের বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

গত ২ দশকে প্রথম নিষেধাজ্ঞা:
চলতি বছরের শুরুর দিকে পরিদর্শনের সময় ভারতের আম প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রগুলোতে কীটপতঙ্গ দমনের পদ্ধতিতে ত্রুটি খুঁজে পায় জাপানের কর্তারা। এরপরই ভারত থেকে আম আমদানি স্থগিত করা হয়। এর আগে ‘ফ্রুট ফ্লাই’ বা ফলের মাছি সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে জাপান ভারতীয় আমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। পরবর্তীতে ভারত তাদের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শোধন পদ্ধতি জোরদার করার পর ২০০৬ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

জাপানি পরিদর্শকরা যা খুঁজে পেয়েছেন:
প্রতিটি আম রফতানির মরশুমের আগেই, জাপান ভারতের ‘ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট’ (VHT) কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তাদের পাঠায়। রফতানির আগে আমগুলোকে জীবাণুমুক্ত করার দায়িত্ব এদের উপরই ন্যস্ত থাকে। VHT হল একটি রাসায়নিকমুক্ত প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের সংস্পর্শে রাখা হয়—যাতে ক্ষতিকর পোকা এবং ফলের মাছির লার্ভা ধ্বংস করা যায়। ভারত-জাপানের মধ্যে রফতানি চুক্তি অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়াকরণটি বাধ্যতামূলক। গত মার্চ মাসে উত্তরপ্রদেশের রহমানপুরে অবস্থিত VHT কেন্দ্রে আম পরিদর্শনে আসেন জাপানের কর্তারা। এই কেন্দ্রে জীবাণুমুক্তকরণ সংক্রান্ত কাজে বেশ কিছু ত্রুটি খুঁজে পান তাঁরা। যা জাপানের কঠোর উদ্ভিদ স্বাস্থ্য মানদণ্ডের নীচে। ‘ফ্রুট ফ্লাই’-এর মতো কীটপতঙ্গের ক্ষেত্রে জাপান ‘জিরো-টলারেন্স’ বা বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করে। কারণ এই কীটপতঙ্গগুলো জাপানের অভ্যন্তরীণ কৃষিক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যার কারণ হিসেবে ধরা হয়। জাপানের ‘ইয়োকোহামা প্ল্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন’ ঘোষণা করেছে, ২০২৬ সালের ২৫ মার্চের পর ইস্যু করা ভারতীয় আম আর গ্রহণ করা হবে না।

আম রফতানিকারকদের বড় ধাক্কা:
ভারতের আমের সবচেয়ে বড় বাজার না হলেও জাপানে রফতানি করা আমে ভারতের আম ব্যবসায়ীদের ভাল মুনাফা হয়। কারণ চড়া দাম মেলে। ভারত প্রতি বছর প্রায় ২ কোটি ৮০ লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদন করে। যা বিশ্বের বৃহত্তম আম উৎপাদনকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে ভারতকে। উৎপাদিত আমের সিংহভাগই দেশেই থাকে। তবে জাপানের মতো উচ্চমানের বাজারগুলোতে আম রফতানির ফলে আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মুনাফা অর্জন করে থাকেন। আম রফতানিকারকরা এখন আশঙ্কা করছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ভারতের কৃষি পণ্যের মান-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর আস্থার সঙ্কট তৈরি হতে পারে। এই স্থগিতাদেশের ফলে বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের ‘আলফনসো’ আম উৎপাদনকারী অঞ্চলের কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বাড়ল।
তীব্র দাবদাহ এবং ‘এল নিনো’ জলবায়ু চক্রের প্রভাবে আবহাওয়ার খামখেয়ালিতে চলতি বছরে আমের ফলনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিছু এলাকায় বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। যেহেতু উৎপাদন এমনিতেই ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে, তাই আমের মরশুমে জাপানের এই নিষেধাজ্ঞা তাঁদের আয়ের ওপর আরও বড় আঘাত হানতে পারে।