পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: আইনি বিচ্ছেদের পথে স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী জুঁই বিশ্বাস। ২০১৯ সাল থেকেই তাঁরা একে অন্যের বোঝাপড়ার মাধ্যমে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এবছরের শুরু থেকেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইনের সাহায্য নিচ্ছেন স্বরূপ বিশ্বাসও। আগামী কিছু মাসের মধ্যেই হয়তো বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।
জুঁই বিশ্বাস দক্ষিণ কলকাতার ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। স্বরূপ বিশ্বাস ও জুঁই বিশ্বাসের দুই মেয়েও রয়েছে। টলিপাড়ায় স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ। তাঁর দাপট বৃদ্ধি, স্বজন-পোষণ, হুমকি থেকে শুরু করে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে ভোটের ফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকে। জুঁই বিশ্বাসের বক্তব্য, টলিউড সংক্রান্ত যা যা অভিযোগ সামনে এসেছে, তা তাঁর কানেও গিয়েছে। কিন্তু তিনি কখনই টলিউড নিয়ে মাথা ঘামাতেন না। কোনদিন কোনও প্রিমিয়ার বা টলিউডের কোন পার্টিতেও তিনি যাননি বলে জানান। কারণ, স্বরূপ বিশ্বাস টলিপাড়ার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি এক্কেবারে উল্টোদিকে হাঁটতেন।
জুঁই বিশ্বাস আরও জানান, ২০১৯ সাল থেকে পারস্পরিক সমঝোতায় তিনি বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। তবে কোভিড পরিস্থিতি থাকায় একই সঙ্গে থাকতেন। ঠিকানা বদল করেননি। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন তিনি। তিনি জানান, তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে। সে কারণে ব্যক্তিগত জীবনের কথা প্রকাশ্যে আনেননি এতদিন। যত দ্রুত সম্ভব আইনি পথে বিচ্ছেদ হোক, এখন সেটাই চাইছেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান অবস্থা নিয়েও তাঁর প্রতিক্রিয়া ‘২০১১-২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় তৎকালীন সরকার ভালো কাজ করেছে। তবে তারপর থেকে বদল। ভালোর পাশাপাশি খারাপ কাজ হত।’ সেটা তিনি ভালোভাবে নেননি। এমনকি অভয়া কাণ্ড নিয়ে তিনি প্রতিবাদ করায় তাঁকে আর প্রকাশ্যে কথাও বলতে দেওয়া হয়নি দলের পক্ষ থেকে। অথচ খাতায় কলমে তিনি এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের স্পোকসপার্সন।
বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসে একের পর এক পদত্যাগের হিড়িক। এবার জুঁই বিশ্বাসও কি সেই পথেই হাঁটবেন ? তা সময় বলবে।