বিজেপি বিধায়ক রমাকান্তের বাড়িতে CID-র অভিযান, বিধায়ককে তলব

11

স্টাফ রিপোর্টার: মীন উন্নয়ন নিগমের নিয়োগ সহ অন্যান্য কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়ক রমাকান্ত দেউরির ঘরে সিআইডি হানা। রবিবার রাতে মরিগাঁওয়ের মিকিরভেটায় রমাকান্তের বাড়িতে অভিযান চালানোর পর সোমবার সকালেও ফের একবার তল্লাশি চালায় সিআইডি।
সূত্রের খবর, রবিবার রাতে মরিগাঁওয়ের মিকিরভেটায় রমাকান্তের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল সিআইডি। কিন্তু বাড়িতে পাওয়া যায়নি বিজেপি বিধায়ক রমাকান্তকে। বাড়িতে না পেয়ে রমাকান্তকে শমন জারি করেছে CID। মীন উন্নয়ন নিগমের নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে যায় বিজেপি বিধায়ক তথা মুখ্যমন্ত্রীর অতি ঘনিষ্ঠ রমাকান্ত দেউরির। মামলা এতটাই স্পর্শকাতর ছিল যে সি এম ভিজিল্যান্সের কোপের মুখে পড়ে যান বিজেপি বিধায়ক রমাকান্ত। রাজ্য মীন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন বিজেপি বিধায়ক রমাকান্ত। তাঁর আমলেই মীন উন্নয়ন নিগমের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কেলেঙ্কারি হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই মামলায় ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। এরমধ্যে রয়েছেন দুই, ACS আধিকারিক অনুরাধা অধিকারী ও নরেন বসুমতারি। কারাগার থেকেই এদের দুজনকে গ্রেফতার করে CID। ২০১৯ থেকে ২০২২ এই সময়কালে ব্যাপক এই নিয়োগ কেলেঙ্কারি সংঘটিত হয়েছিল রাজ্য মীন উন্নয়ন নিগমে। সবমিলিয়ে অবৈধভাবে ১৬৮ জনকে নিয়োগ করা হয়েছিল। সোমবার আদালতে হাজির করা হয় মূল অভিযুক্ত দুই ACS আধিকারিক অনুরাধা অধিকারী, নরেন চন্দ্র বসুমতারি এবং পদ্ম হাজরিকাকে। উল্লেখ্য, শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়াই নয়, রাজ্যের মৃতপ্রায় ২২টি বিল ও জলাশয়কে আবর্জনামুক্ত করতে বেশ কয়েককোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু কোনও কাজ না করেই বরাদ্দ অর্থের পুরোটাই আত্মসাৎ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এবং সেটাও হয়েছিল রমাকান্তের কার্যকালেই। বিধানসভা নির্বাচনের পর তিনি মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন এমন আশায় ছিলেন মরিগাঁওয়ের টানা তিনবারের বিধায়ক রমাকান্ত। ইতিমধ্যে একটি ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে আছে রমাকান্তের নাম । তবু অত্যন্ত রহস্যজনকে মুখ্যমন্ত্রীর অতি ঘনিষ্ঠদের তালিকায় প্রথম সারিতে চলে আসেন মরিগাঁওয়ের বিধায়ক। এমনকী রমাকান্তের বিশেষ আগ্রহেই এক বছর আগে মরিগাঁওয়ে অসম ক্যাবিনেটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর ছত্রছায়ায় থেকেই এভাবে নিজেকে একের পর এক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন রমাকান্ত। তাহলে কি মুখ্যমন্ত্রীর অগোচরেই এসব কাণ্ড ঘটিয়েছেন মরিগাঁওয়ের বিধায়ক। নাকি অন্য কোনও গল্প, অন্য কোনও সমীকরণ আছে এর পেছনে!