কংগ্রেস-তৃণমূল জোট? মমতার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সোনিয়া-রাহুল

42

নিউজ ডেস্ক: ফের কী কংগ্রেসের হাত ধরেই বেঁচে থাকার লড়াই চালাবে তৃণমূল? দিল্লিতে মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সোনিয়া গান্ধী বৈঠকের পর বুধবার রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক হল। এদিনের বৈঠক হয় প্রায় ৯০ মিনিট। দিল্লির ১০ জনপথে রাহুলের সরকারি বাসভবনের এই বৈঠকের দিকে দিনভর নজর ছিল দেশের রাজনৈতিক মহলের। কারণ পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ক্ষমতা হারানোর পর ঘরেই ‘ব্রাত্য’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেককে নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অধিকাংশ সাংসদ ও বিধায়করা দলের বিরুদ্ধেই বলতে শুরু করেছেন।

এই আবহে দিল্লিতে ২ দিন ধরে মমতা-সোনিয়া এবং অভিষেক-রাহুলের বৈঠক বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্রের খবর, বৈঠকে তৃণমূল জানিয়েছে যে তারা একটি শক্তিশালী জোট চায় এবং বিরোধী জোটে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, কংগ্রেসের দাবি, প্রস্তাব তৃণমূলের তরফ থেকেই আসতে হবে; তারা নিজেরা এমন কোনো পদক্ষেপের জন্য চাপ দেবে না।

‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া গান্ধীর আলিঙ্গনের ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল; তৃণমূল কংগ্রেস ‘এক্স’ (X)-এ এই দৃশ্যকে তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করে। সূত্র মারফত জানা গেছে, বুধবার রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে আলোচনা হয়েছএ কীভাবে কেন্দ্র বিরোধী নেতারা বিজেপির মোকাবিলায় আরও ভালো সমন্বয় ও ঐক্য গড়ে তুলবেন।

কংগ্রেস ত্যাগ করার পর ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারকে পরাজিত করতে তৃণমূল ও কংগ্রেস জোট করেই লড়েছিল। যদিও পরের বছরই তাদের জোট ভেঙে যায়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট।

এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস যখন অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখে পুড়ছে, ঠিক তখনই একদল তৃণমূল বিধায়ক ক্ষুব্ধ এবং পরবর্তীতে দেখা গেল অর্ধেকেরও বেশি সাংসদও বিদ্রোহী। তার সঙ্গে বুধবার তৃণমূলের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা দিয়েছেন সুস্মিতা দেব। বুধবার দল ও রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন অসমের ভূমিপুত্র তবে বাংলা থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়া সুস্মিতা দেব। কংগ্রেস ছেড়ে ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে যোগ দেওয়া সুস্মিতা দেবের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ পদত্যাগের পরপরই তিনি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।