স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত পাহাড়ি শহর ডিফুও। ডিফুর বাসিন্দা পুতুল বরার বাসগৃহে এবারও বিশেষ আয়োজন। নিজের বসতভিটেকে স্টেডিয়ামে বদলে দিলেন পুতুল। পুতুলের জার্মান স্টেডিয়ামেই বিশ্বকাপ দেখবেন শতাধিক ফুটবলপ্রেমী।

যাবতীয় প্রতীক্ষার অবসান। আর মাত্র কয়েকঘন্টা। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে বারোটায় ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকার এই ম্যাচ নিয়ে গোটা বিশ্বের সঙ্গে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ভারত, অসম তথা রাজ্যের পাহাড়ি একটা শহর ডিফুও। বিশ্বকাপ এলেই শিরোনামে চলে আসেন ডিফুর বাসিন্দা ফুটবলপ্রেমী জার্মানির সমর্থক পুতুল বরা।
অদ্ভুত এই ফুটবল প্রেমের জন্যই শিরোনামে পুতুল। ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালবাসা এতটাই যে নিজের বাসভবনকেই স্টেডিয়ামে বদলে দেন পুতুল। আর এই স্টেডিয়ামে বসে নিজে ম্যাচ দেখার পাশাপাশি ফুটবল প্রেমী আরও কিছু লোককেও সে সুযোগ করে দেন পুতুল। পুতুলের সেই ফুটবল স্টেডিয়ামে একসঙ্গে বসে ম্যাচ দেখার ক্ষমতা ক্রমশ বাড়ছে দিনের পর দিন। রাজ্য ফুটবল মহলে জার্মানির সমর্থক হিসেবে পরিচিত পুতুল।

বাড়িকে মিনি স্টেডিয়ামে বদলে দেওয়ার পর তার নাম দেওয়া হয়েছে জার্মান স্টেডিয়াম। শুধু নামই নয়, রীতিমতো স্টেডিয়ামের আদলে রূপান্তর করা হয়েছে সবকিছু। জার্মানির সমর্থক হলেও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা সহ বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা, তারকা ফুটবলারেদর ছবি, জার্সি দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে গোটা চত্বর। বিশাল পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটা মুহূর্ত তুলে ধরবে অত্যাধুনিক প্রজেক্টর। প্রচুর লোক একসঙ্গে বসে উপভোগ করবেন স্বপ্নিল সেই মুহূর্তগুলো। এজন্য অনেককে আমন্ত্রণ করেও নিয়ে এসেছেন পুতুল।
২০১৮ সালে এই মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করেন পুতুল। স্বপ্নপূরণের জন্য ব্যাংক থেকে ১৩ লক্ষ টাকা ঋণ নেন পুতুল। পুতুলের জার্মান স্টেডিয়ামে এবার একসঙ্গে বসে ম্যাচ দেখতে পারবেন ১০০ জন ফুটবলপ্রেমী। ম্যাচের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাদের খাবার-দাবারও পাওয়া যাবে। তাই ফুটবলপ্রেমীদের পাশাপাশি খাদ্যরসিকরাও একবার ঢুঁ মেরে আসতে পারেন। বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী ম্যাচের আগে প্রাণের চেয়ে প্রিয় জুবিনকে জানানো হবে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি, এমনটাই জানান পুতুল।
এরপরই হবে স্টেডিয়ামের উদ্বোধন। প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ফুটবলার স্বাধীন ডেকা রজা উদ্বোধন করবেন স্টেডিয়ামের। ডিফুর পুলিশ রিজার্ভের বাসিন্দা পুতুল বরার বাসগৃহে উদ্বোধনী ম্যাচ উপভোগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বেশ কয়েকজন বিশেষ লোককেও। এরমধ্যে রয়েছেন পুতুলের ঘনিষ্ঠ পুরনো বন্ধু-বান্ধবীরাও। সবমিলিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ যেন আলাদা এক অনুভূতি নিয়ে আসে পুতুলের জার্মান স্টেডিয়ামে। তার সাক্ষী থাকতেই বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে হাজির থাকবেন স্বাধীন।