স্টাফ রিপোর্টার: দারুণ কিন্তু খেতে পারি না! অসমের লিচু এখন হয়ে উঠেছে মহার্ঘ। এমনই মহার্ঘ যে সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে অসমের বহুবিখ্যাত লিচু।
তেজপুরের বাগান থেকে গুয়াহাটির বাজারে এই জিআই ট্যাগ লিচুর দাম উঠেছে চড় চড় করে। গুয়াহাটির বাজারে তেজপুরের একটি লিচুর দাম অন্যূন ৪০ টাকা আর এক কেজি কিনতে হলে গুনতে হচ্ছে ১৮০০ টাকা। এর চেয়ে কম দাম চেরি, ড্রাগন ফ্রুট বা প্রিমিয়াম আঙুরের।
গরমকালে লিচুর স্বাদ নিতে সবাই অপেক্ষা করে, কিন্তু লিচু খাওয়া এখন বিলাস হয়ে দাঁড়িয়েছে অসমে। দাম এতই বেশি যে শোনার পর লিচুতে হাত দিতেও ভয় পায় ক্রেতা।
যদিও অসমের লিচু উৎপাদনের পরিমাণ কখনোই খুব বেশি ছিল না। ২০২৫ সালে অসমে লিচু উৎপাদনের পরিমাণ ৬২,৭৫৫ টন, এখন পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে বেশি উৎপাদন। ২০২৪ সালে অসমে লিচু উৎপাদন ছিল ৫১,২০৬ টন।
চমৎকার স্বাদ হলেও তেজপুরের লিচু ধীরে ধীরে সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে কেননা জিআই ট্যাগ পাওয়ার পর উৎপাদনের অধিকাংশই বিদেশে চলে যায়, বলেছেন গুয়াহাটির এক লিচুবিক্রেতা।
ভারতে লিচু উৎপাদন কয়েকটি রাজ্যেই সীমাবদ্ধ। গোটা দেশের মোট লিচু উৎপাদনের মধ্যে বিহারে প্রায় অর্ধেক লিচু পাওয়া যায়। বার্ষিক বিহারে লিচু উৎপাদন ৩,২২,০০০ টন। বিহারের পরেই অনেকটা পিছনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (৮২ হাজার টন)। ঝাড়খণ্ড ও পাঞ্জাবে প্রায় ৬৫ হাজার টন লিচু উৎপাদিত হয়। লিচু উৎপাদনে দেশের মধ্যে অসম রয়েছে পঞ্চম স্থানে।
কিন্তু অসমের লিচু জিআই ট্যাগ পাওয়ার পরই গোটা বিশ্বের নজরে চলে এসেছে তেজপুরের লিচু। স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক হারে এই লিচু রফতানি হচ্ছে বিদেশে।
এবছর অসমের লিচু জাহাজ বোঝাই করে রফতানি হয়েছে দুবাই ও সিঙ্গাপুরে। বাণিজ্য সভা এবং সরকারি কর্তারা সাড়ম্বরে এই খবর ঘোষণা করেছিল। কিন্তু গুয়াহাটির বাজারে লিচু খাওয়া নয়, দেখে মন ভরাতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
অথচ কয়েক বছর আগেও অসমে ৫০টা লিচুর গুচ্ছ পাওয়া যেত ৫০-৬০ টাকায়। লিচুর মরশুম মানেই আনন্দ, একেকটা পরিবার কয়েক কেজি লিচু কিনত। বাচ্চারা লিচুর লাল খোসা ছাড়িয়ে শাঁস খেত। কিন্তু এখন সবই অতীত, বলেছেন এক ক্রেতা।
Next Post