রবীন্দ্র ভবন এখন শুধুই অতীতের স্মৃতি

13

নিউজ ডেস্ক: একসময় যে রবীন্দ্র ভবন গম গম করত হাততালি, হাসি, দুঃখ, বিক্ষোভে সেটাই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে শুধুই অতীতের স্মৃতি। নীরব, নির্বাক।
রবীন্দ্র ভবনের মঞ্চে হাজার হাজার শিল্পী তাঁদের কণ্ঠস্বর খুঁজে পেয়েছেন এবং দর্শকদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই কণ্ঠের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করেছিলেন। অসমের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আজ বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে। মঞ্চ নির্বাক, দরজায় তালা।
প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেল রবীন্দ্র ভবন বন্ধ। অভিনেতা তথা পরিচালক হিমাংশুপ্রসাদ দাস রবীন্দ্র ভবনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে যান। তাঁর কথায়, রবীন্দ্র ভবনে পারফর্ম করা ছিল সব শিল্পীর স্বপ্ন। এটা ছিল প্রত্যেক শিল্পীর কাছে একটা মাইলফলক। রবীন্দ্র ভবনে শুধু পারফরম্যান্সই মুখ্য ছিল না, এটা ছিল সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র। যে কোনও অনুষ্ঠানে আগে-পরে ঋদ্ধ আলোচনায় ভরা থাকত রবীন্দ্র ভবন।
নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক কর্মীনরেন পাটগিরি বলেছেন, রবীন্দ্র ভবন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতি শুধু নাট্যপ্রেমীদেরই নয়। সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে এবং অসম হারিয়েছে নিজের সংস্কৃতি বহমান রাখার অন্যতম কেন্দ্রকে। রবীন্দ্র ভবন শুধু একটি প্রেক্ষাগৃহ ছিল না, বরং এটা ছিল অসমিয়া আবেগের প্রহরী।
আকাশবাণী অসমের ডিরেক্টর তথা নাট্যকর্মী নয়ন প্রসাদের মতে, নতুন নতুন প্রেক্ষাগৃহ তৈরি হওয়াতেই রবীন্দ্র ভবনের কার্যকারিতা কমেছে। তিনি বলেছেন, আগে সরকারের অধিকাংশ অনুষ্ঠানই হত রবীন্দ্র ভবনে। সম্প্রতি তৈরি হয়েছে আরও বড় জ্যোতি-বিষ্ণু প্রেক্ষাগৃহ, এ ছাড়া শংকরদেব কলাক্ষেত্রে রয়েছে বেশ কয়েকটি আধুনিক অডিটোরিয়াম। ধীরে ধীরে সরকারি অনুষ্ঠানের কেন্দ্রের অগ্রাধিকার তালিকায় নীচে চলে গেছে রবীন্দ্র ভবন। এইসঙ্গে তিনি যোগ করেছেন, সরকারি টাকা পেতে বিলম্ব এবং সংস্কারের কাজের জন্য প্রায় অর্ধেক দশক বন্ধ রবীন্দ্র ভবনের দরজা।
অভিনেতা তথা সংগীতকার মৃদুপবন পরাশর বলেছেন, আগে আমরা অভিনয় শিক্ষার ক্লাসে যেতে পারতাম না। সত্যি কথা বলতে কী, কোনও অভিনয় শিক্ষার ক্লাসই সেই প্রশিক্ষণ দিতে পারত না যা রবীন্দ্র ভবন আমাদের দিয়েছে। এটা ছিল আমাদের শ্রেণিকক্ষ, আমাদের মঞ্চ এবং বিশ্বের প্রতি আমাদের জানলা। সম্প্রতি সরকার জানিয়েছে যে আসন্ন বাজেটে রবীন্দ্র ভবনের জন্য বরাদ্দ থাকবে। আশা করি কয়েক মাসের মধ্যে পূর্ণোদ্যমে চালু হবে রবীন্দ্র ভবন।
একই কথা বলেছে সংস্কৃতি বিষয়ক ডিরেক্টোরেট। বেশ কয়েক বছর সংস্কারের কাজের জন্য বন্ধ আছে রবীন্দ্র ভবন। আশা করা যায়, সংস্কারের কাজ চার-পাঁচ মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তারপর চালু হবে রবীন্দ্র ভবন, বলেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক ডিরেক্টোরেটর এক কর্তা।