বিধানসভায় কুণালের প্রথম ভাষণে হইচ‌ই,উঠল চোর স্লোগান

28

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:১৮ তারিখ রাজ্যপাল আর এন রবির ভাষণ দিয়ে শুরু হয়েছিল রাজ্যের বাজেট অধিবেশন । সোমবার পেশ হয়েছে পূর্ণাঙ্গ বাজেট। আজ রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে আলোচনায় কার্যত সরগরম হয়ে ওঠে বিধানসভা।

২০২৬ এ বিধানসভা ভোটে জিতে প্রথমবার বিধায়ক হয়েছেন কুণাল ঘোষ ‌। আর বিধানসভায় প্রথম বক্তব্যেই শুধু বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে নয়, সরাসরি স্পিকারের সঙ্গেই সংঘাত লাগল তাঁর। রাজ্য বিধানসভায় রাজ্যপালের বাজেট ভাষণ সম্পর্কে আলোচনায় কুণাল ঘোষ বক্তব্য রাখতে ওঠার সময়ই চোর চোর স্লোগান। ঘটনা ঘিরে উত্তপ্ত বাজেট অধিবেশন। স্পিকার প্রথমেই তাঁকে সতর্ক করে বলেন, ‘কুণালবাবু ইস্যুর বাইরে কোনো কথা বলবেন না।’

কেন্দ্রীয় সরকারের কত টাকা বকেয়া, কেন বিগত সরকারের সাফল্যগুলি তুলে ধরা হল না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কুণাল ঘোষ। তাঁকে রাজনৈতিক মন্তব্য করতে নিষেধ করেন স্পিকার। জবাবে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘তাহলে আমি বলতে ওঠায়, কেন কোন তৃণমূল বলে কটাক্ষ করা হল, সেটা রাজনৈতিক মন্তব্য ছিল না?’

নিজের বক্তৃতা শুরু করার পর একাধিকবার তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। বিধায়ক বলেন, ‘অনৈতিক ভাবে বিরোধী দলনেতা হয়ে বসেছেন যিনি তাঁকে বলতে দেওয়া হবে, কিন্তু আমরা যাঁরা আসল বিরোধী তাঁদের বলতে দেওয়া হচ্ছে না। স্পিকার মহোদয় একজন ধর্ষণে অভিযুক্তকে বিরোধী দলনেতা করেছেন।’

ত্রিপুরা থেকে কেন বাংলাদেশি ধরা পড়ছে? অমিত শাহের বি এস এফ কেন কিছু করছে না, এ কথা বলা মাত্রই তীব্র বাদানুবাদ । কুণাল ঘোষকে একসময় মেজাজ হারাতেও দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘একদম গা জোয়ারি দেখাবেন না। চুপ করে বসে থাকুন।’

তিনি বলেন, “হাত থেকে এখনো কালি যায়নি। আমি বেইমান নই। রাজ্যপালের ভাষণে যে ভাল কথাগুলি রয়েছে, আমরা চাইব সরকার সেগুলো কার্যকর করুক। কিন্তু এটা তো বলতেই পারি, হকার উচ্ছেদ হচ্ছে যেখানে, বিনা নোটিশে বুলডোজার যেন না পাঠানো হয়।”

তার আর‌ও সংযোজন, রাজ্যপালের ভাষণে সর্বজনীন বিকাশের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সব ধর্ম-ভাষার মানুষকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। নমাজ পাঠের জন্য একদিন ২ ঘণ্টা রেড রোড বন্ধ থাকতোআর যোগ দিবসের জন্য ৭ দিন রেড রোড বন্ধ থাকবে কেন? এ প্রশ্নও করেন কুণাল ঘোষ।