
নিউজ ডেস্কঃ অরুণাচলের জমিতে শিবির তৈরি করছে চিনা সেনা। শুধু PLA-র শিবিরই নয়, সেতু, সড়ক, পাকা ঘর নির্মাণ করে একটু-একটু করে ভারতীয় ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিবেশী চিন। অরুণাচলে চিনের আগ্রাসন নিয়ে NAH WELFARE SOCIETY-র লিখিত অভিযোগ। রাজ্য-কেন্দ্র সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি।
অরুণাচল প্রদেশের আপার সোবণশিরি টাকসিং সার্কলে ভারতীয় সীমার মধ্যেই পিপলস লিবারেশন আর্মির একটি বিশাল শিবির নির্মাণ করছে চিন। অরুণাচলেরই একটি বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে এই অভিযোগ উত্থাপন করেছে। টাকসিং সার্কলে ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে PLA-র শিবির নির্মাণের কাজ।
শুধু অভিযোগ উত্থাপন করেই থেমে থাকেনি NAH WELFARE SOCIETY নামের এই সংগঠন, আপার সোবণশিরি জেলার জেলাশাসকের কাছে এমর্মে একটি চিঠিও পাঠিয়েছে তারা। সীমা পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে চিনা সেনা শিবির নির্মাণ করছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, স্থায়ী শিবিরের পাশাপাশি সড়ক এবং সেতুও নির্মাণ করছে চিন। NAH WELFARE SOCIETY-র সভাপতি কেরু সাডারের স্বাক্ষর করা চিঠিতে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। চিঠিতে ভারতীয় মানচিত্রের মধ্যে থাকা পাঁচটি নির্দিষ্ট স্থানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যে জায়গাগুলো এই মুহূর্তে চিনের দখলে রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, অয়িং (আসাফিলা), পানিয়ার (সুজাৰ্টা অঞ্চল), মারপান (মাৰ্নাফে), পট্ৰাং হ্ৰদ এবং টিণ্ডিংটাং।
NAH WELFARE SOCIETY-র দাবি, ২০২০ পর্যন্ত এই সব এলাকা ভারতীয় ভূখণ্ডের অন্তর্গত ছিল। এই এলাকাগুলো সারি অঞ্চলের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। চিঠিতে কেরু সাডার উল্লেখ করেছেন…
‘প্রতিদিন একটু-একটু করে নিজেদের জমি হারাচ্ছি আমরা। টাকসিং এলাকায় চিনা PLA-র চালিয়ে যাওয়া এই কার্যকলাপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর আসল উদ্দেশ্য কী কেউ জানে না। গভীর এক ষড়যন্ত্র এটা। এটা আমাদের জন্য সত্যিকার অর্থেই চিন্তার বিষয়।’
NAH WELFARE SOCIETY-র মতে, এই এলাকাগুলোয় গত কয়েক প্রজন্ম থেকেই ভারতীয়রা শিকার করে আসছিল। দিনের আলোয় গরু, মোষ চরানো হত এই এলাকাগুলোয়। কিন্তু গত ৫ বছর থেকে একটু-একটু করে এই এলাকাগুলো নিজেদের দখলে নিচ্ছে চিন। নিজেদের সীমা সম্প্রসারণের জন্য এটা করছে প্রতিবেশীরা। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই ইস্যুতে রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে NAH WELFARE SOCIETY।

ভারতীয় সেনার ওপর চরম আস্থা থাকলেও এই ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয় বলে সাফ জানিয়েছে অরুণাচলের সামাজিক সংগঠন NAH WELFARE SOCIETY। খুব শীঘ্রই কোনও ব্যবস্থা না নিলে অদূর ভবিষ্যতে বড়সড় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে অরুণাচলের সামাজিক সংগঠন NAH WELFARE SOCIETY।