অসমের ছয়টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি

26

নিউজ ডেস্ক: মরশুমি বায়ুর প্রথম ধাক্কায় অসমের অন্তত ছয়টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২২ হাজার মানুষ। ধেমাজিতে প্রভাব পড়েছে রেল চলাচলে। প্রতিবেশী রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ এবং অসমে ব্যাপক বৃষ্টির প্রভাবে ৬ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি।
অসমের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এখন পর্যন্ত বৃষ্টির জেরে ২২,১২৪ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। ধেমাজি, নলবাড়ি, ডিব্রুগড়, চিরাং, লখিমপুর ও কোকরাঝাড়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এই ছয়টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ধেমাজি জেলায়। শুধু ধেমাজি জেলায় ১৫,৪৮৩ মানুষ বর্তমানে জলের সঙ্গে মোকাবিলা করছে। শুধু বন্যা পরিস্থিতিই নয়, এইসঙ্গে বৃষ্টির জেরে ভাঙছে নদীর পাড়।
বৃষ্টির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত বাসস্থান ও কৃষিক্ষেত্র। বৃষ্টিতে প্রভাবিত জেলাগুলির ৯৬টি গ্রাম ডুবে রয়েছে জলের তলায় এবং প্রায় ১৬৯০ হেক্টর কৃষিজমি প্লাবিত।
টানা বৃষ্টিতে নদী এবং শাখানদীর জল বাড়ছে। শিবসাগরের দিসাং নদীর জল বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। এর ফলে নাংলামুরাঘাট এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিচু জমিতে ইতিমধ্যে জল ঢুকেছে নাংলামুরাঘাট এলাকায়।
বৃষ্টির জেরে মানুষের ক্ষতি তো হয়েছেই, এইসঙ্গে প্রভাব পড়েছে গৃহপালিত জীবজন্তুর ওপর। বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৮,১৯৯ গৃহপালিত জীবজন্তু।
বাসস্থান, কৃষিক্ষেত্র, গৃহপালিত জীবজন্তুর সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেন চলাচল। অসমের ধেমাজিতে সিমেন নদীর ওপরে একটি সেতু আংশিক ভেঙে পড়েছে টানা বৃষ্টি ও ভূমিক্ষয়ের কারণে। এর ফলে ধেমাজি জেলায় রেল চলাচল বিপর্যস্ত।


উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে ধেমাজি জেলায় অতিরিক্ত বৃষ্টি ১১০ মিমি অতিক্রম করেছে, যার ফলে নদীর পাড় ভাঙছে এবং সেতুর ক্ষতি হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আপাতত অর্চিতাপাথার ও সিমেন চাপরি স্টেশনের মাঝে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
রেল কর্তারা জানিয়েছে, ১৯৬৫ সালে তৈরি সিমেন নদীর ওপরের সেতুটি পরে ব্রডগজ করা হয়। আপাতত সেতুর কাঠামোয় কোনও ক্ষতি হয়নি। তবে নদীর পাড় ভেঙে যাওয়ায় সেতুর ভিত খানিকটা আলগা হয়ে গেছে।