অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে উত্তর পূর্ব ভারতের প্রথম টি মিউজিয়াম

60

নিউজ ডেস্কঃ অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে উত্তর পূর্ব ভারতের প্রথম টি মিউজিয়াম।২০১৮-য় কাজ শুরু হলেও এখনও সম্পূর্ণ হয়ে ওঠেনি মিউজিয়াম। মরিচা ধরেছে লোহার রডে, জঙ্গলে ছেয়ে আছে ভবনের চারপাশ। টি মিউজিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঘোর আশঙ্কায় সচেতন মহল। শেষপর্যন্ত সম্পূর্ণ হবে তো ডিব্রুগড়ের টি মিউজিয়ামের কাজ?

২০১৩-১৪ অর্থবছরে অসম সরকারের পর্যটন বিভাগ টি মিউজিয়াম নির্মাণের জন্য ৫.৫৪ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব তৈরি করে উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন পরিষদের হাতে তুলে দেয়। উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন পরিষদের অনুমোদনের পর শুরু হয় মিউজিয়াম নির্মাণের কাজ। ২০১৮ সালেই শুরু হয়ে গিয়েছিল কাজ। কিন্তু নয় বছর কেটে গেলেও এখনও শেষ হয়ে ওঠেনি কাজ।

অসমের চা শিল্পের ইতিহাস, পরম্পরাগত চা উৎপাদন শৈলি, কলঘর সহ যাবতীয় সবকিছুকে এক ছাতার তলায় নিয়ে এসে ২.৬৬ একর জমিতে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর সবাই আশায় ছিলেন, একবার মিউজিয়ামের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে অসমের চা শিল্পের ইতিহাস বিশ্বব্যাপী প্রচার পাবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটা হয়ে ওঠেনি।

প্রথম কিস্তির ৩.১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মূল ভবনের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় কিস্তির টাকা রিলিজ করা হয়নি বলে আটকে আছে কাজও। ২০২৩ সালে মিউজিয়াম ভবন অসমের সাধারণ মানুষকে উৎসর্গ করা হয়। কিন্তু পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় এখন একটু-একটু করে দেওয়াল খসে পড়ছে। মরিচা ধরেছে লোহার রডে, জঙ্গলে ছেয়ে আছে ভবনের চারপাশ। এনিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাধারণ মানুষ।
অসম্পূর্ণ এই চা মিউজিয়ামের ভবন এখন ঠিকাদারের গুদামঘর বা শ্রমিকদের ক্যাম্পে বদলে গেছে বলে অভিযোগ। ২০২৩ এর মাঝমাঝি সময়ে এই চা মিউজিয়ামের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন অসম পর্যটন উন্নয়ন নিগমের অধ্যক্ষ ঋতুপর্ণ বরুয়া। বাকায়দা সংবাদ সম্মেলন করে এটা জানিয়েছিলেন বরুয়া। কিন্তু তাঁর এই ঘোষণাকে অসার প্রমাণ করে ঘোর অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে স্বপ্নের এই টি মিউজিয়াম। খুব শীঘ্রই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে সচেতন মহল।