অরুণাচলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি

8

নিউজ ডেস্ক: অরুণাচলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে মৃত ৪, ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ হাজার। পরিস্থিতি এমনই যে অরুণাচল প্রদেশের ২৮ জেলায় টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে।


অরুণাচল প্রদেশের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দিল্লি থেকে এসেছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। ২৪ জুন থেকে টানা বৃষ্টি হয়েছে অরুণাচলে। ২৫১ গ্রাম ডুবে রয়েছে জলের তলায়, ক্ষতিগ্রস্ত ৯০,৪৯৯ মানুষ।
২৪ জুন কেয়ি পানইয়োর জেলায় ভূমিধসে ভেসে গিয়েছিল অন্তত ১৫টি বাড়ি। সেদিন মৃত্যু হয় ৩ জনের। শেষ মৃত্যুর খবর এসেছে আঞ্জাও জেলার সারতি গ্রামে। এইসঙ্গে কেয়ি পানইয়োরে ২১ জন জখম এবং দুজন মহিলা এখনও নিখোঁজ। বন্যার জেরে আপার সিয়াং জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। প্রভাব পড়েছে ৪৭ হাজার মানুষের ওপর, এরপর রয়েছে সিয়াং। মোট ২৪ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। এ ছাড়া ক্রা ডাডিতে ৮ হাজার এবং ইস্ট কামেং জেলায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।
শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু আকাশপথে কেয়ি পানইয়োর জেলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। চলতি উদ্ধার কাজ, ত্রাণসামগ্রী বণ্টনের খোঁজ নেন তাঁরা। এর আগে পেমা খান্ডুর সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্রের তরফে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন তিনি।

ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বললেন মন্ত্রীরা
ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা মন্ত্রীদের


শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন, বন্যায় মানুষের পাশাপাশি ক্ষতি হয়েছে কৃষিক্ষেত্রের। ধান, কমলালেবু, কলার বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। ৩৪২টি কাঁচাবাড়ি, ৮২টি পাকা বাড়ি, ৩৭টি কুঁড়েঘর ভেসে গেছে জলের স্রোতে। এ ছাড়া ১৩০ হাঁস-মুরগি, ৬১৩ গরু-ছাগল এবং ৬টি মোষ ভেসে গেছে বন্যার জলে।
কেয়ি পানইয়োর, পাপুম পারে, ইস্ট সিয়াং, আপার সিয়াং, পাক্কে কেসাং, লোয়ার ডিবং ভ্যালি এবং ক্রা ডাডি জেলায় বহু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত। সংস্কারের কাজ চলছে। মোট ৮০টি রাস্তা, ১২টি সেতু, ১৮টি কালভার্ট, ১৪৭ জল সরবরাহ কেন্দ্র, ২১টি বিদ্যুতের লাইন, ৬০টি বিদ্যুৎস্তম্ভ, ৭টি বন্যা প্রতিরোধী প্রাচীর, ৪টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ৪টি সরকারি ভবন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। এ ছাড়া বন্যার জলে ডুবে রয়েছে ১০১০ হেক্টর বনভূমি এবং ৩১২ হেক্টর কৃষি ও বাগিচা কৃষি এলাকা।