ডক্টরস ডে-তে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

51

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:রাজ্যে পালাবদলের পরে প্রথম চিকিৎসক দিবস। আর প্রথম ডক্টরস ডে-তেই বাজিমাত। রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল বদলাতে একগুচ্ছ প্রকল্পের সূচনা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ডক্টরস ডে উপলক্ষে সল্টলেকের বিধানচন্দ্র রায়ের মূর্তিতে মাল্যদান ও উন্নয়ন ভবনে চিকিৎসক দিবস পালনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত মোট ১০টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।‌ পাশাপাশি বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালের নতুন নামকরণ হল আজ। বিধান নগর মহকুমা হাসপাতালের নাম বদলে এই হাসপাতালের নাম হল ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল।

কী কী প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী??

গর্ভবতী মহিলা এবং শিশুদের জন্য ২০০টি অ্যাম্বুলেন্সের উদ্বোধন। ১০০ ডায়াল করলেই যে অ্যাম্বুলেন্সগুলি মিলবে।

জরুরি প্রয়োজনে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের জন্য বেসরকারি হাসপাতালে ১০% সংরক্ষণ।

মা ও শিশুর সঠিক সময়ে সঠিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে জননী পোর্টালের উদ্বোধন।

গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের আর্থিক সহায়তায় রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনার উদ্বোধন।

সরকারি হাসপাতালগুলিতে নজরদারির জন্য স্বাস্থ্যভবনে কন্ট্রোল রুম।

পূর্ব বর্ধমানের গলসি উত্তর, হাওড়া দক্ষিণ ও পূর্ব মেদিনীপুরের রানিচকে তিনটি আরোগ্য আয়ুষ্মান মন্দির।

বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ব্রাকি থেরাপি পরিষেবার উদ্বোধন।

নদিয়া জেলায় ড্রাগ কন্ট্রোল অফিস ও বর্ধমানের খণ্ডঘোষে ব্লক পাবলিক হেলথ ইউনিট ল্যাবের উদ্বোধন।

স্বাস্থ্যভবনে নবরূপে সজ্জিত প্রেক্ষাগৃহের উদ্বোধন।

সরকারে আসার পরই প্রতিশ্রুতি। আর এবার একটা একটা করে প্রতিশ্রুতি পালন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে যুক্ত হবে রাজ্য । সেইমতো রাজ্যে গর্ভবতী মহিলা, সদ্যপ্রসূতি মা ও শিশুদের জন্য জননী পোর্টাল ও মাতৃবন্দনা যোজনার সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কী এই জননী পোর্টাল ও মাতৃবন্দনা যোজনা?

জননী পোর্টাল- ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের চালু করা পরিষেবা-ভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এই পোর্টালের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়ের প্রসব পূর্ববর্তী পর্যায়ে যত্ন, ডেলিভারি থেকে নবজাতকের যত্ন প্রতিটি ধাপ ডিজিটালি ট্র্যাক করা হয়ে থাকে।

মাতৃবন্দনা যোজনা- ভারত সরকারের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প হল মাতৃবন্দনা যোজনা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের আর্থিক সহায়তা করা হয়ে থাকে। প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে কোনও মা পান ৫,০০০ টাকা। আর দ্বিতীয় সন্তান মেয়ে হলে ওই মা পান এককালীন ৬,০০০ টাকা।

ডক্টরস ডে-তে শুভেন্দু অধিকারীর মুখে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিয়ে একরাশ ক্ষোভ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছিলেন যেখানেই আমি হাত দিচ্ছি, দেখছি বিধানচন্দ্র রায় তা শুরু করে দিয়ে গিয়েছেন। আর আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যেখানেই হাত দিচ্ছি, দেখছি বিগত সরকারের ধ্বংসলীলা।”

বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যর পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের প্রতি তিনি তোপ দাগেন, “ভিন রাজ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে শুধু বাঙালিদের ভিড়। এইরাজ্যে কি চিকিৎসা দেওয়া যায় না? এত আমরা-ওরা? এটা কি কাম্য ছিল? ইউরোপের বিভিন্ন হাসপাতালে গেলে বিদেশে বাঙালি ডাক্তার দেখতে পাবেন। কেউ আমেরিকা, কেউ ফ্রান্স- বিভিন্ন হাসপাতালে বিভাগীয় প্রধান। আর বাংলার লোকগুলো ভেলোরে লাইন দিচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে অন্য রাজ্যের মানুষ দাড়িয়ে আছেন। তাঁর হাতে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড রয়েছে। এটাও কি কাম্য ছিল? চিকিৎসার আগে রেফার করার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। হাসপাতালগুলোর কী অবস্থা হয়েছে! স্বাস্থ্যভবনও খারাপ অবস্থায়।”

মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, “বিধানচন্দ্র রায়ের কাজকে মাথায় রেখে কাজ করতে পারলে উন্নতি হবে। তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসাবে জেতেননি। তিনি নির্দল হয়ে জিতেছিলেন। ২০০৬ সালে বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই বিধানচন্দ্র রায়ের বই পড়ছি।”

আজ শুভেন্দু অধিকারী বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেন ‌‌মুখ্যমন্ত্রী। প্রশংসা করেন অগ্নিমিত্রা পালেরও।