পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: ঋতব্রত-মমতা দ্বৈরথের জল গড়াল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে। তৃণমূল কংগ্রেসের তহবিল, প্রতীক- এর রাশ কার হাতে ? সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের ঋতব্রত শিবির।
বিধানসভার অধিবেশন এর প্রথম দিন নিউটাউনের এক হোটেলে স্পেশাল সেশন ডেকে কার্যত উত্থান হয়েছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দলের সর্বোচ্চ পদগুলি সরিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। গঠন করা হয়েছিল ‘ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি’ । এখানেই থেমে থাকেননি। নিজেদের অস্তিত্বকে সিলমোহর দিতে
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে পৌঁছে গিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান, আখরুজ্জামান, সন্দীপন সাহা এবং অরূপ রায়ের পাঁচ জনের এক প্রতিনিধি দল।
তবে সিইও দফতর থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন “নতুন কমিটি যেহেতু তৈরি হয়েছে, তা অবগত করতেই কমিশনে আসা। আমরাই তো তৃণমূল, আবার প্রতীক দাবি করার কী আছে! দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে আছেন। তাই আলাদা করে দলের প্রতীক দাবি করার তো কিছু নেই, আমরাই আসল তৃণমূল।”
অন্যদিকে বসে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও। ঋতব্রতরা যখন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি তৈরি করেন, সেই একই সময় গভীর রাতে সম্পূর্ণ আলাদা একটি নতুন কমিটির তালিকা তৈরি করে নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে চেয়ারপার্সন হিসেবে নিজেই সই করেছেন নেত্রী।
একই দলের দুটি দাবি। কমিশন শেষ পর্যন্ত কাকে আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেবে? কে পাবে জোড়াফুল-এর প্রতীক? কে পাবে তহবিল-এর দায়িত্ব ? সেটা শুধু সময়ের অপেক্ষা।