নিউজ ডেস্ক: ১২৫ বছরের মধ্যে জুন মাসে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত অসমে। গোটা দেশেই জুন মাসে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে সবাইকে ছাপিয়ে গেছে অসম। ২০২৬ সালের জুন মাসে অসমে সামগ্রিকভাবে ঐতিহাসিক বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা গেছে। জুন মাসে স্বাভাবিক বা আদর্শ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় ৪১৫ থেকে ৪৯০ মিলিমিটার হলেও, এই বছর তা প্রায় ৪০% কম অসমে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃষ্টিপাত ১৯০১ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। অসমে সামগ্রিক ঘাটতির পাশাপাশি রাজধানী গুয়াহাটি বিমানবন্দর অঞ্চলে মাত্র ১১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অন্তত ২০১১ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন।
ভারতে বর্ষার প্রথম মাস ধরা হয় জুনকে। এবার জুনেই সক্রিয় হয়েছে এল নিনো। এবার ক্রমে তার প্রভাব বিস্তার হবে। যা ভারতের বর্ষাকে প্রভাবিত করবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। তা যে এত দ্রুত প্রভাব ফেলবে তা পরিস্কার ছিলনা।
এল নিনো-র প্রভাবে এ বছর বর্ষায় বৃষ্টির ঘাটতি হবে বলে আগেই জানিয়েছিল আবহাওয়া দফতর। তবে এবার জুনেই সেই ঘাটতি পৌঁছে গেছে ৪৩ শতাংশে। যা নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে বিশেষজ্ঞ থেকে কৃষক সকলকেই।
২০২৬ সালের জুন মাস ১৯০১ সালের পর পঞ্চম সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাতের মাস হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ১ জুন থেকে ৩০ জুনের মধ্যে দেশে স্বাভাবিক ১৬৫.৩ মিলিমিটারের বিপরীতে ৯৯.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, ফলে সার্বিকভাবে ৪০ শতাংশ বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এর আগে চারটি বছর—২০০৯ (৮৭.৬ মিমি), ১৯০৫ (৯১.৯ মিমি), ২০১৪ (৯২.৮ মিমি) এবং ১৯২৬ (৯৬.৭ মিমি)—এ বছরের তুলনায় জুন মাসে কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে, যা বিলম্বিত বর্ষার তীব্রতাকেই তুলে ধরে।
দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাব ইতিমধ্যেই কৃষিক্ষেত্রে পড়তে শুরু করেছে, এবং মাটিতে অপর্যাপ্ত আর্দ্রতার কারণে বেশ কয়েকটি রাজ্যে খারিফ শস্যের বীজ বপনের গতি তীব্রভাবে কমে গেছে। জুন মাসে বেশ কয়েকটি রাজ্যে উদ্বেগজনক বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা গেছে। এই মাসে গুজরাটে ৮২%, ছত্তীশগড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬৫% ও ঝাড়খণ্ডে ৫৯% কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর প্রদেশ (-৫০%), দিল্লি (-৪৯%), বিহার (-৪৭%), পাঞ্জাব (-৪৭%), মহারাষ্ট্র (-৪৭%) এবং কেরলমেও (-৩৪%) বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ছিল।