পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: মেট্রোপলিটনের তৃণমূলের অস্থায়ী পার্টি অফিস কার? তা নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে উত্তাপ শুরু হলেও সেই তরজা চলছে শনিবার সকাল পর্যন্ত। ঘটনা সূত্রপাত শুক্রবার রাতে। ঋতব্রত শিবির হঠাৎ পৌঁছেছিলেন এই পার্টি অফিসে। নিজেদের মধ্যে বৈঠক, তারপর বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা। ঋতব্রত শিবিরের দাবি তাঁরাই যেহেতু আসল তৃণমূল, তাই কার্যালয়ে বৈঠক করতে আসা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে দেখা যায় তৃণমূল পার্টি অফিসে ঋতব্রত শিবির তালা ঝুলিয়ে দিলেন। ব্যাস গন্ডগোলের শুরু। তার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সেখানে পৌঁছন কুণাল ঘোষরা অর্থাৎ কালীঘাট তৃণমূল শিবির। তাঁরা তালা খুলতে গেলে সেখানে পৌঁছে যায় আধা সেনা। কুণাল ঘোষ বললেন, “ ঋতব্রত শিবির তালা লাগিয়ে চলে গেলেন। আর আধা সেনা এল, সেটার গার্ড দিল!” এরপর প্রগতি ময়দান থানায় যান কুণাল ঘোষ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, বিপ্লব রায়ের নামে অভিযোগ দায়ের করেন।
কুণাল ঘোষদের অভিযোগপত্রে লেখা রয়েছে, “ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা জোর করে পার্টি অফিসে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ঢুকেছেন। সম্পত্তি নষ্ট করার প্রবণতা ছিল।”
উল্লেখ্য, মেট্রোপলিটনের চার তলা ভবনের তিনটে তলায় ছিল তৃণমূলের কার্যালয়। কিন্তু পালাবদলের পর এই ভবনের মালিকও আদালতে মামলা করেন। তা নিয়ে কিছু জটিলতা চলছে। ঋতব্রত আগেই জানিয়েছিলেন, বাড়ির মালিকের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে এই ভবনে কার্যালয়ের কাজকর্ম তাঁরাই পরিচালনা করবেন। কিন্তু কালীঘাট তৃণমূলের দাবি, এগ্রিমেন্ট পেপার তাঁদের কাছে আছে। তৃণমূল ভবনের সামনে সারারাত বসেছিলেন কালীঘাট তৃণমূল শিবিরের কয়েকজন সমর্থক। আজকে সকালেও সেই একই ছবি।
‘আসল’ তৃণমূল কারা, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। যত দিন যাচ্ছে তৃণমূল অন্দরে বিবাদ বেড়েই যাচ্ছে। প্রতীক, তহবিল নিয়ে লড়াইয়ের পর তৈরি হয়েছে ভবনের দখলদারি নিয়েও। এবার তৃণমূল ভবন কার দখলে যায় সেটাই এখন দেখার।