কড়া নিরাপত্তায় শুরু অমরনাথ যাত্রা, খুশি তীর্থযাত্রীরা

37

নিউজ ডেস্ক: শুরু হল অমরনাথ যাত্রা। ২০২৬ সালের অমরনাথ যাত্রা ৩ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে, মোট ৫৭ দিন। শ্রী অমরনাথজি সাইন বোর্ড (এসএএসবি) এই তারিখ নিশ্চিত করেছে। ৩৮৮০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত বরফে ঢাকা শিবলিঙ্গের গুহা দর্শনে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত ভিড় করেন অমরনাথে। এ বছরও ব্যতিক্রম হচ্ছে না, পুণ্যার্থীরা অমরনাথ দর্শন করতে পারবেন। দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগের পহেলগাঁও থেকে ৪৮ কিমি এবং মধ্য কাশ্মীরের গান্ডেরওয়ালের বালতাল থেকে ১৪ কিমি হেঁটে পৌঁছতে হয় অমরনাথে। দুর্গম ও বিপদসঙ্কুল পথ হলেও মহাদেবের টানে বয়স নির্বিশেষে ভক্তদের সমাগম হয় এই পুণ্যস্থানে।

নিয়ম অনুসারে ১৩ বছরের নীচে এবং ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে কাউকে তীর্থযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয় না। ৬ সপ্তাহের বেশি গর্ভবতী নারীরাও অনুমতি পান না। হিন্দু পুরাণ অনুসারে, অমরনাথ গুহাটি ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর অমরত্বের গোপন রহস্য বা ‘অমর কথা’ শ্রবণের স্থান হিসেবে পরিচিত। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, ভগবান শিব যখন পার্বতীকে অমরত্বের রহস্য শোনাচ্ছিলেন, তখন অন্য কেউ যেন তা শুনতে না পায় সেজন্য তিনি সমস্ত বাহন ও অলঙ্কার ত্যাগ করেন। গুহার ভেতর একজোড়া পায়রা সেই গোপন কথা শুনে ফেলে এবং অমরত্ব লাভ করে। আজও ভক্তরা সেই গুহার চারপাশে ওই পায়রার জোড়াকে দেখতে পান বলে বিশ্বাস করেন। অমরনাথ যাত্রাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে কড়া নিরাপত্তা, নিরাপত্তায় রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত জঙ্গি সংগঠনের হুমকির কারণে অমরনাথ যাত্রা বন্ধ ছিল। ১৯৯৬ সালে নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে আবার অমরনাথ যাত্রা শুরু হয়।

চার বছর পরে ২০০০ সালে পহেলগাঁও শহরে অমরনাথ যাত্রীদের উপর জঙ্গিরা হামলা চালায়। এতে ৩০ জন মারা যায় যাঁদের বেশির ভাগ ছিলেন তীর্থযাত্রী আর কিছু ছিলেন যাত্রীদের জন্য ঘোড়া সরবরাহকারী, যাদের গুলি করে মারা হয়। এই তীর্থযাত্রা রাজ্য সরকার ও শ্রী অমরনাথ যাত্রা ট্রাস্ট যৌথভাবে আয়োজন করে থাকে।