পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: শহিদ দিবস ভাগাভাগি। তৃণমূলের দুই আর প্রদেশ কংগ্রেসের শহিদ মিনারের সভা। সব মিলিয়ে আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি সভা। মেয়ো রোডের সভা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধল ঋতব্রত তৃণমূল। ব্রিগেডের সভা থেকে তৃণমূল নেত্রীকে কটাক্ষ প্রদেশ কংগ্রেসের ।ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেসের প্রদীপ ভট্টাচার্যের এক প্রশ্ন, কেন কমিশনের রিপোর্ট চেপে রেখেছিল মমতার সরকার? তার তদন্ত হোক।
আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তারামণ্ডলে শহিদ স্মরণের সভা থেকে যখন লড়াইয়ের ডাক দিচ্ছেন ঠিক তখনই শহিদদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য নিয়ে বিঁধলেন ঋতব্রত শিবির। বাদ যায়নি কংগ্রেসও।
শহিদ মিনারের পাদদেশ থেকে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, “কেন কমিশনের রিপোর্ট চেপে রেখেছিল মমতার সরকার, তার তদন্ত হোক।” মেয়ো রোড থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১ জুলাইকে তোপ দেগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আগে শহিদ মঞ্চে শুধু নাচ গান হত। তারকাদের এনে ক্যাটওয়াক হত। এটা কি ক্যাটওয়াকের জায়গা?” এরপরই তাঁর সংযোজন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে ৯৩ এর দোষীদের সাজা দেবেন। দেননি কেন? কমিশনের রিপোর্টকে ইচ্ছাকৃতভাবে চেপে দেওয়া হল। এর জবাবদিহি করতে হবে মমতাকেই।”
২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৩ সালের ঘটনার তদন্তের জন্য নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়কে ওই কমিটির প্রধান ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে সে দিনের ঘটনার তদন্ত হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার বিস্ফোরক তথ্য সামনে নিয়ে আসেন। জানান, “কমিশন সুপারিশে নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫ লক্ষ টাকা দিতে বলেছিল। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস সরকার নিহতদের পরিবারকে মাত্র ২ লক্ষ। আহতদের পরিবারকে ১৫ হাজার দিয়েছিল।”
পাশাপাশি একুশে জুলাইয়ের শহিদ পরিবারগুলিকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের, যদি দলের প্রতীক তহবিল নির্বাচন কমিশন তাঁকে হাতে দেয়। এই মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমন করতেও ছাড়েননি।
আজ ঋতব্রত শিবিরের মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেছেন মদন মিত্র । অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি মদন মিত্রকে ধমকে-চমকে লাভ হবে না বলেও হুংকার দিয়েছেন তিনি। সিপিএম আমলেও তাঁকে ভয় দেখিয়ে কিছু করা যায়নি বলে কটাক্ষ করেছেন মদন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমা চাওয়ার জন্য দুই ঘণ্টা ডেডলাইনও দিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক। তাঁর কথায়, “অভিষেক এক ঘন্টা সময় দিয়েছে। আমি এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে দুই ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। এই মঞ্চে এসে দাঁড়িয়ে স্বীকার কর আমার জন্য তৃণমূলের এই দশা, ক্ষমতা থাকলে স্বীকার কর।”
আজ মঞ্চ থেকে ফিরহাদ হাকিমও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে নিশানা করেছেন। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন ” যারা লিফটে উঠে রাজনীতি করছেন, আর যারা প্যারাশুটে নামছেন, তাঁদের অস্তিত্ব থাকবে না”।
সব মিলিয়ে ২০২৬ এর একুশে জুলাই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয় রইল।