প্রলয়ঙ্করী বন্যা! এপর্যন্ত মৃত ৩১, গত ২৪ ঘন্টার প্রাণ হারালেন ২১ জন

509

নিউজ ডেস্কঃ প্রলয়ঙ্করী বন্যায় বিধ্বস্ত গোটা অসম। বন্যায় রীতিমতো হাহাকার উজান অসমে। গত ২৪ ঘন্টায় ২১ জন লোক প্রাণ হারিয়েছেন গোটা রাজ্যে। সরকারি তথ্যে এটা জানানো হলেও প্রকৃত মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে ব্রহ্মপুত্র। দিহিং, দিখৌ, ধনশিরির জলস্তরও বাড়ছে। রাজ্যের ৫ লক্ষ ৬৪ হাজার লোক বন্যার কবলে, ক্ষতিগ্রস্ত ৮৭২টি গ্রাম, ২৪,২১০.৩৫ হেক্টর কৃষিজমি।

প্রলয়ঙ্করী বন্যায় বিধ্বস্ত গোটা অসম
বিধ্বংসী বন্যায় হাহাকার উজান অসমে

প্রতিবার বর্ষা এলে নদী রূপ বদলায়। বিধ্বংসী চেহারা নেয়। এবারও তার অন্যথা হয়নি। তবে বন্যার এই ধ্বংসলীলা ক্রমশ যেন বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। সর্বনাশা রূপ নিয়ে আবারও নেমে এসেছে বরাক, ব্রহ্মপুত্র সহ রাজ্যের সবকটা নদী, উপনদী।

বন্যার কবলে রাজ্যের ১৬টি জেলা
৫ লক্ষ ৬৪ হাজার লোক বন্যার কবলে
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮৭২টি গ্রাম, ৪৪ টি সার্কল
২৪,২১০.৩৫ হেক্টর কৃষিজমি বন্যার কবলে
২৭৩টি শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ১.১৪ লক্ষ লোক
ভারতীয় সেনা, বায়ুসেনার উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
উদ্ধার অভিযানে NDRF, SDRF, অসম পুলিশ ও জেলা প্রশাসন

অসম ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্টের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী,

বন্যার মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩১-এ
গত ২৪ ঘন্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন
শিবসাগরে মৃতের সংখ্যা সর্বাধিক ১৪
চরাইদেওয়ে ৬, যোরহাটে ৫ জনের মৃত্যু
দুজন করে প্রাণ হারিয়েছেন ধেমাজি ও গোলাঘাটে
একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন শোণিতপুর, কার্বি আংলঙে
শিবসাগরে ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ৩.৫৯ লক্ষ
যোরহাটে ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ৮৭,৬৬২
চরাইদেওয়ে বন্যাক্রান্ত লোকের সংখ্যা ৭২,৬৪৬

বন্যার জলে ভেসে গেছে বাড়ি-ঘর, বাগান-জমি। সব স্বপ্ন ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে বন্যা। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে জমিতে হাড়ভাঙা খাটুনি করে গেছেন, শেষে ফসল তুলবেন বলে, সেই কৃষকের এখন মাথায় হাত। কারণ, সেই কৃষি জমিতে নৌকা চলছে এখন। শিবসাগর, যোরহাট, চরাইদেও সবজায়গায় শুধু ধ্বংসস্তুপ আর হাহাকার। লক্ষ লক্ষ মানুষ আশ্রয় শিবিরে। অনেকের বইপত্র ভাসিয়ে নিয়েছে বন্যার জল। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী। জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বন্যাদুর্গতদের অন্তর্নিহিত এই মর্মান্তিক কাহিনী যেন এক। সরকারিভাবে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো প্রকৃত মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হবে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে ব্রহ্মপুত্র। বুড়িদিহিং, দিখৌ, ধনশিরির জলস্তরও ক্রমশ বাড়ছে। প্রশাসন ও ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট উদ্ধার অভিযান চালিয়ে গেলেও প্রকৃতির কাছে যেন অসহায় হয়ে পড়েছে মানুষ।

বন্যার প্রলয়ঙ্করী এই চেহারা যেন এই কথাটাই বলছে বারবার, প্রতিবার। এখন শুধু অপেক্ষা, অন্তহীন অপেক্ষা কবে জল নামবে। বৃষ্টি থামবে। কারণ, এখনও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অঝোড়ে পড়ছে বৃষ্টি। আর তাই জলস্তর নেমে আসার সম্ভাবনাও কম।

বুধবার থেকে ফের শুরু হয়েছে অসম বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। কিন্তু উজানের বন্যা পরিস্থিতি জটিল হওয়ার দরুন বাজেট অধিবেশন ছেড়ে বন্যার্তদের কাছে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এদিন নাজিরা, সোনারি, টিয়কের বেশ কিছু বন্যাক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ত্রাণ শিবিরে গিয়ে বন্যাক্রান্তদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। সরকার সামর্থনুযায়ী মানুষকে সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করে নেন, এখনও বহু গ্রামে মানুষ জলের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে আছেন। সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে এখনও পৌছানো যায়নি। মঙ্গলবার হেলিকপ্টারে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।

বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এই মুহূর্তে হিসেব দেওয়া মুশকিল। কারণ সরকারিভাবে যে ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে, তার থেকে অনেক গুণ বেশি ক্ষতি হয়েছে। তাই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে আরও সময় লাগবে। সোনারিতে সাংবাদিকদের একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে যোরহাটের বন্যাক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এপিসিসি সভাপতি তথা সাংসদ গৌরব গগৈ। তিতাবর শহর সহ প্রায় ৪৭ টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বন্যা পরিস্থিতির আগে সরকার মানুষকে সতর্ক করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হত।

নাগা পাহাড় থেকে নেমে আসা হড়পা বানে তছনছ গোটা উজান অসম। যে সব এলাকায় কখনও বন্যা হয়নি, সেই সব এলাকায় কোথাও বুক জল, তো কোথাও কোমর জল। তিনচার দিন অতিক্রান্ত হলেও এখনও সব বন্যাক্রান্তদের কাছে পৌছতে পারেনি প্রশাসন। এককথায় ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি উজান অসমে।