পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৬টি মামলা উঠল কলকাতা হাইকোর্টে। এই মামলাগুলির মধ্যে ১৩ টি মামলায় আগেই রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাকি তিনটির জন্য রক্ষাকবচ চেয়ে ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। সেই মামলাগুলিতেই আজ স্বস্তি পেলেন তিনি। ৩১ অগস্ট পর্যন্ত তাঁকে রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আর আজ ১৬ টি মামলায় রক্ষাকবচ মঞ্জুর।
আজ কলিতলা থানা, বিষ্ণুপুর থানা ও ভবানীপুর থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে তার শুনানি ছিল।
রাজ্যের হয়ে এজি এসভি রাজু বলেন, “এই আবেদনের বিরোধিতা করা হচ্ছে। কোন অন্তর্বতী নির্দেশ নয়। তার আগাম জামিন চাওয়া উচিৎ ছিল। এই মামলার কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই।”
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, “যদি অন্তর্বতী স্থগিতাদেশ বা রক্ষাকবচ না দেওয়া হয়, তাহলে এর আগে ডিজে বাজানোর জন্য যে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে সেটা অর্থহীন হয়ে যায়।”
পাল্টা এস ভি রাজুর সওয়াল,”ওঁর বিরুদ্ধে অবৈধ খননের থেকে প্রাপ্ত আর্থিক দুর্নীতি অভিযোগ রয়েছে।”
বিচারপতির প্রশ্ন, “এই অভিযোগগুলি কি অভিজিৎ দাস ওরফে ববির করা? যিনি তাঁর কাছে হেরে গিয়েছিলেন? কোন সময় এই এফ আই আর করা হয়েছে দেখুন। এটা কি যথেষ্ট নয় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের জন্য। তদন্তের অগ্রগতি কী হয়েছে সেটাও দেখতে চায় আদালত। পুলিশ তদন্ত করুক।”
পাল্টা এস ভি রাজুর সওয়াল, “এফ আই আর নিতে দেরি হয়েছে মানেই রক্ষাকবচ পাবে এটা আইন নয়। মামলা গ্রহণযোগ্য নয়।”
আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণের সওয়াল, “বিষ্ণুপুরে অভিষেক ৭ লক্ষ ভোটে জিতেছেন। অথচ সেই বিধানসভায় সাত লক্ষ ভোটার নেই। ওঁকে জেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। নয়ত, অনেকেই ভয় পাবেন। তখন আর অভিযোগ করতে চাইবেন না । উনি এতটাই প্রভাবশালী যে এখনো চাপ দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ তুলে নেওয়ার।”
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “এখন পরিস্থিতি বদলেছে। উনি যদি এতটাই প্রভাবশালী হন, তাহলে আমতলায় ওঁর অফিস কেন ভাঙা হল? আদালতকে কেন হস্তক্ষেপ করতে হল?”
এজি সুরজিত মিত্র বিচারপতিকে জানান, “যে সম্পত্তি ভাঙা হয়েছে, তা ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্স’-এর নয়।”
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, “রাজনৈতিক পটভূমি না বদলালে আপনারা করতে পারতেন? আমাদের উচিৎ নয় বাস্তব অস্বীকার করা।”
৪ঠা মের আগে কাস্টোডিয়াল জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারতেন। এফ আই আর দেরি করে হলে আদালত নিশ্চিত হস্তক্ষেপ করবে। এখন মামলাকারীর উপরেই আক্রমণ হয়েছে। তাঁকে যদি সহযোগিতার কথা বলা হয় সমস্যা কোথায়?
এরপর কেস ডাইরি ছাড়া কোন নির্দেশ না দেওয়ার আর্জি জানায় রাজ্য। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ রক্ষাকবচ দেয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।