নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি শিল্পপতি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। এপ্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, এজন্য ভারতকে প্রচুর মূল্য চোকাতে হবে।

এক্স পোস্টে রাহুল গান্ধী লিখেছেন যে সাদা চোখে যা দেখা যাচ্ছে এর মাঝে আরও অনেককিছু রয়েছে। আপসকামী প্রধানমন্ত্রী বাধ্য হয়েছেন ভারতের স্বার্থ বিক্রি করতে। ভারতকে প্রচুর মূল্য চোকাতে হচ্ছে।
আমেরিকায় গৌতম আদানি, সাগর আদানি এবং আদানি গ্রিন এনার্জির প্রাক্তন সিইও বিনীত জৈনের বিরুদ্ধে ঘুষ দেওয়া এবং জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলা ছিল। সম্প্রতি সেটি খারিজ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিন জেলা আদালত।
মার্কিন প্রশাসন এই মামলা আর চালাতে চাইছে না সেখবর এসেছিল মে মাসে। আদালতে মার্কিন সরকারি আইনজীবী নজিরবিহীনভাবেই আদানির বিরুদ্ধে ঘুষ-মামলা খারিজ করে দেওয়ার আর্জি জানান। সম্মতি দিলেও এই মামলা নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলেন বিচারক। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আদানি আমেরিকায় ১০০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত কি না, তা-ও জানতে চান তিনি। আদানির বিরুদ্ধে মামলা খারিজ করে দিয়ে বিচারক নিকোলাস গারাওফি বলেছেন, সরকারের দিক থেকে এটা খুবই অভূতপূর্ব পদক্ষেপ।
আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মার্কিন আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। সংকটের মাঝেও আমরা সততা, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসনের ওপর ভরসা রেখেছি।
প্রসঙ্গত, আদানি গোষ্ঠীর মালিকানাধীন ‘আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড’ (এজিএল) বাজারের চেয়ে বেশি দামে সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির বরাত পেতে অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের ঘুষ দিয়েছিল বলে অভিযোগ। দাবি, ঘুষের অঙ্ক ছিল ২৬.৫ কোটি ডলার যা ভারতীয় মুদ্রা ২০৩০ কোটি টাকা। তিনটি অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালে আমেরিকার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে মামলা করেছিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর হাই প্রোফাইল অভিযুক্তদের নাম রয়েছে, এমন বেশ কয়েকটি মামলা খারিজ করার আর্জি জানিয়েছে আমেরিকার বিচার বিভাগ। সেই তালিকায় যুক্ত হলেন গৌতম আদানি।