নেতাজি-বিবেকানন্দর মূর্তি ভাঙচুর শিলংয়ে

32

নিউজ ডেস্ক: শিলংয়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি ভাঙায় ক্ষোভ সাধারণ মানুষের। বুধবার খাসি ছাত্র সংস্থার কালো পতাকা নিয়ে বাইক মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শিলং। রিঞ্জয় এলাকার আর আর কলোনিতে বাইক থেকে নেমে মুখে কালো কাপড় লাগানো একদল দুষ্কৃতী ভেঙে ফেলে নেতাজির মূর্তি। নেতাজির আবক্ষ মূর্তি গড়াতে থাকে মাটিতে। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ উমপ্লিংগামী বাইক মিছিল থেকে হামলা চালানো হয় নেতাজির মূর্তিতে।
আর আর কলোনি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি অফিসের দরজা লাথি মেরে ভেঙে ফেলে বাইক আরোহীরা। তারপর নেতাজির মূর্তি ভাঙচুর করা হয়। সোসাইটির তরফে এফআইআর করা হয়েছে রিঞ্জয় থানায়।

শিলংয়ের বিবেকানন্দ পার্কে রয়েছে স্বামী বিবেকানন্দর মূর্তি। বাইক আরোহীরা সেখানে গিয়ে তাণ্ডব চালায়। তাদের ছোড়া পাথরে ভেঙে পড়ে বিবেকানন্দ মূর্তিকে ঘিরে রাখা কাচ। সমাজকর্মী রিঞ্জয় রাংভাহ এডি ওয়ার বলেছেন, এরকম ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। আশা করি আমাদের নেতৃত্ব এবং বুদ্ধিজীবীরা এর প্রতিবাদ করবেন যাতে এরকম ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ১৯৩০-এর দশকে নেতাজি কয়েকবার এসেছিলেন শিলংয়ে। এখানকার কৃষ্টি-সংস্কৃতির প্রশংসা করেছেন সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর মূর্তি ভাঙা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। বিবেকানন্দ পার্কের বাসিন্দারা বলেছেন, গোটা বিশ্বে আধ্যাত্মিকতার পরম উদাহরণ বিবেকানন্দ। তাঁকে শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের মানুষ স্বীকৃতি দিয়েছে। বিবেকানন্দর মূর্তির ওপর আক্রমণ, খুবই দুর্ভাগ্যজনক।
শিলংয়ে নেতাজিপ্রেমীদের সংগঠনের মুখপাত্র বলেছেন, নেতাজি হলেন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বাধীনতা সংগ্রামী। শিলংয়ের সঙ্গে নেতাজির ছিল ঐতিহাসিক সম্পর্ক। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বড় নেতা নেতাজি, তাঁর অসম্মান ভাবাই যায় না। গণতান্ত্রিক সমাজে এধরনের ক্রিয়াকলাপের কোনও স্থান নেই।