ভৌগোলিক কারণেই বিপর্যয় নেপালে

37

নিউজ ডেস্ক: হড়পা বানে বিধ্বস্ত তিব্বত-নেপাল সীমান্ত। বেশি প্রভাব পড়েছে নেপালে। শুক্রবার পর্যন্ত নেপালের মৃতের সংখ্যা ৪৬৯, নিখোঁজ প্রায় হাজার।
নেপালের ভৌগোলিক অবস্থানই বিপর্যয়ের মূল কারণ কি না সেনিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন ভূতাত্ত্বিকরা। ভারতীয় এবং ইউরেশীয় পাতের সংযোগস্থলে অবস্থিত নেপাল। এই দুই পাতের মধ্যে নিরন্তর সংঘর্ষ চলছে। ফলত ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণেই ভূমিকম্পপ্রবণ নেপাল। ভারতীয় পাত প্রতি বছর গড়ে ৫ সেন্টিমিটার করে ইউরেশীয় পাতের নীচে ঢুকে যাচ্ছে। নেপাল অবস্থিত হিমালয় পর্বতমালায়। আর হিমালয় পৃথিবীর অন্যতম নবীন পর্বতমালা, যার ভূতাত্ত্বিক গঠন এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। দুই পাতের সংঘর্ষের ফলে হিমালয়ে এখনও ভূ-উত্থান চলছে। দুই পাতের ঘর্ষণের জেরে প্রতি বছর পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা ৫ মিলিমিটার করে বাড়ছে। ভারতীয় এবং ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষে ভূপৃষ্ঠে বিপুল টেকটোনিক চাপ সঞ্চিত হয়। ভূত্বকের শিলা স্তরের ফাটল বরাবর সেই চাপ হঠাৎ মুক্ত হলে ভূমিকম্প হয়।
হিমবাহ-ধসের কারণে হিমালয় পর্বতের বিভিন্ন অঞ্চলে হিমবাহ ভেঙে হড়পা বান নেমে আসে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে এই শতাব্দীর গোড়া থেকে শুরু করে প্রতি বছর দেড় ফুটেরও বেশি উচ্চতার বরফ গলে যাচ্ছে হিমালয়ের হিমবাহগুলিতে। ভারতের হিমালয়-সীমান্তবর্তী অঞ্চল, চিন, নেপাল, ভুটান, তিব্বতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এজন্যই ভূমিকম্পপ্রবণ। আগের তুলনায় এই শতাব্দীতে হিমালয়ের হিমবাহ গলার গড় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
গত চার দশকে হিমবাহগুলির চার ভাগের এক ভাগ গলে গেছে। উন্নয়নের নামে বনভূমি ধ্বংস, অপরিকল্পিত নির্মাণ, সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ বন্ধ না হলে বর্ষার মরশুমে বন্যা ও ভূমিধসের মোকাবিলা করা কঠিন। ২০২১-এ উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে, ওই বছরের জুলাইয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়াড়ের হড়পা বান, ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিকিমে সাউথ লোনাক হ্রদের বাঁধ ভেঙে যায়, ২০২৫ সালের আগস্টে উত্তরকাশী ও ধারালির হড়পা বানের পরে এবার ভোটে কোশিতে হড়পা বান, সবই পরিবেশ ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার জের।