নিউজ ডেস্ক: মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় মেডিক্যাল টিমের ওপর হামলা। তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স ভাঙচুর। তিনটি অ্যাম্বুল্যান্সে ছিলেন ডাক্তার ও ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানরা। হামলার ঘটনা ঘটে চাওয়ানংকিনিং লিয়াংমেই নাগা গ্রামে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কাংপোকপি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ওয়াইচং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অত্যাবশ্যক মেডিক্যাল সামগ্রী ও পরিষেবা পৌঁছে দিতে গিয়েছিল মেডিক্যাল টিম, সঙ্গে ছিল সিআরপিএফ। তিনটি অ্যাম্বুল্যান্সে ওষুধ ও মেডিক্যাল সামগ্রী নিয়ে রওনা হয়েছিল সিআরপিএফ।
একটি অ্যাম্বুল্যান্সের চালক বলেছেন, আমাদের কনভয় থামায় প্রচুর স্থানীয় অধিবাসী। তারপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় গ্রামবাসীরা চিকিৎসা কর্মীদের মারধর করেছে, পাশাপাশি তিনটি অ্যাম্বুল্যান্সই ভাঙচুর করেছে। গাড়ির বনেটের ওপর কাচ ভাঙা চলে বড় বড় পাথর দিয়ে। অ্যাম্বুল্যান্স থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার ওষুধ সামগ্রী নামিয়ে ধ্বংস করা হয়, জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুল্যান্স চালক।
মেডিক্যাল টিমের ডাক্তার পুম জা মাং সোতের মুখে আঘাত লেগেছে। কাচের আঘাতে তাঁর মুখ থেকে রক্ত পড়তে থাকে। তিনি বলেছেন, আমরা ওষুধ পৌঁছে দিতে এবং স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে যাচ্ছিলাম। কোনও কারণ ছাড়াই আমাদের মারধর এবং গাড়ি ভাঙা হয়। নিরাপত্তা রক্ষীরা থাকতেও এরকম ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।
উল্লেখ্য, টি ওয়াইচং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বহুদিন ধরেই ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী এবং চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। অথচ সেখানে এসব পৌঁছে দিতে গিয়েই আক্রান্ত মেডিক্যাল টিম। সরকারি কর্মীদের নিজস্ব দায়িত্ব পালনের সময় হামলা চলছে, যা গভীর আশঙ্কার।
বৃহস্পতিবার কাংপোকপি জেলায় একটি গাড়িতে সশস্ত্র দুষ্কতীরা আক্রমণ করে। নিহত হন তিন নাগা।
তিন বছর ধরে মণিপুর জ্বলছে। ২০২৩ সালের মে মাসে সংরক্ষণ নিয়ে মৈতেই ও কুকি জনগোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলছিল। যার জেরে এখনও অন্তত ৫০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে আছে। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে দুশোর বেশি। গত কয়েক মাস ধরে চলছে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের সংঘর্ষ।
এদিকে, মণিপুরে জনগণনার আগে এনআরসি করার দাবি তুলেছে মৈতেই ও নাগা সম্প্রদায়। বৃহস্পতিবার রাতে ইম্ফলে বিশাল মশাল মিছিল করে মৈতেই জনগোষ্ঠীর মেইরা পাইবি সংগঠনের মহিলারা।
Prev Post
সাইনবোর্ড সরানো নিয়ে ধুন্ধুমার, অভিষেক-ডেরেক-সহ একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ৩ টি FIR, গ্রেফতার ১৩
Next Post