নিউজ ডেস্ক: গুয়াহাটির অদূরে সোনাপুরের লক্ষ্মীবাই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফিজিক্যাল এডুকেশন (LNIPE)-এর শিক্ষার্থীরা বি.পি.এড কোর্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী শ্রুতি উপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ পড়ুয়াদের। প্রশ্নের মুখে এই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা।
৪ সেপ্টেম্বর শ্রুতি পেটে ব্যথার কথা জানান কর্তৃপক্ষকে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বারবার জানানো সত্ত্বেও শুরুতে তাঁকে কেবল ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সোনাপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শ্রুতির শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি এবং তিনি তীব্র অস্বস্তি বোধ করতে থাকেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য শ্রুতিকে গুয়াহাটির নেমকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর অ্যাপেন্ডিক্স-সংক্রান্ত একটি গুরুতর জটিলতা শনাক্ত করেন। পড়ুয়াদের দাবি, শ্রুতির অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে গিয়েছিল। নেমকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসার পর বুধবার সকালে শ্রুতির মৃত্যু হয়।
তাঁর মৃত্যু LNIPE-র চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠানে কোনো স্থায়ী পূর্ণকালীন চিকিৎসক নেই এবং চিকিৎসকরা কেবল সকাল ও সন্ধ্যার নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য সেখানে উপস্থিত থাকেন।
বিক্ষোভকারীরা শ্রুতির অসুস্থতা, ৪ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর প্রাপ্ত চিকিৎসা, তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বুঝতে দেরি হওয়ার অভিযোগ এবং তাঁকে নেমকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পড়ুয়াদের দাবি, কোনও শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে দ্রুত রেফারেল ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, সুনির্দিষ্ট জরুরি সাড়াদান প্রক্রিয়া এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকা আবশ্যক।
Prev Post