নিউজ ডেস্ক: ইসিআই নেট নিয়ে সরব বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, নতুন ভোটারের নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত অনলাইন ‘ফর্ম ৬’ বেআইনিভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচন কমিশনের ঠিক কে ‘টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস’ বা টিসিএস-কে এই পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিএস নির্বাচন কমিশনের মূল ডিজিটাল ব্যাক-এন্ড পরিকাঠামো এবং ‘ইসিআইনেট’ (ECINET) নামক পোর্টাল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।
রাহুল গান্ধী জানতে চেয়েছেন, টিসিএস-কে কি এমনটা করার জন্য কোনো চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল।
এসআইআরের সময় নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য ‘ফর্ম ৬’ ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া, তথ্য সংগ্রহের পর্যায়ে যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল, তাদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্যও এই ফর্মটি প্রয়োজন হয়। আগের এসআইআর (SIR)-এর সময়কার ভোটার তালিকার সাথে বর্তমান ভোটারদের তথ্যের সামঞ্জস্য বা ম্যাপিং সংক্রান্ত একটি পৃথক ঘোষণাপত্র এই ফর্মের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল।
সমাজমাধ্যমে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, অনলাইন ফর্ম ৬ বেআইনিভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল, যা নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কমিশনাররাই নথিবদ্ধ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের ঠিক কে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসকে এই পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিলেন?
টিসিএস-এর কে এতে অনুমোদন দিয়েছিলেন? তাঁদের কি এমনটা করতে বাধ্য করা হয়েছিল? নির্বাচন কমিশনের কে টিসিএস-কে ‘ফর্ম ৬’-এ পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন? প্রশ্ন রাহুল গান্ধীর।
নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী অনলাইন ‘ফর্ম ৬’-এ পরিবর্তনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ECINET পোর্টালে অনলাইন ‘ফর্ম ৬’-এর সঙ্গে পূর্ববর্তী এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র যুক্ত করা হয়েছিল। এই ঘোষণাপত্রে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, আবেদনকারীর নাম কিংবা তাঁর বাবা-মা বা ঠাকুর্দা-ঠাকুরমার নাম পূর্ববর্তী এসআইআরের সময় ভোটার তালিকায় ছিল কি না।
ওই দুই নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন যে, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার বহির্ভূত এবং একমাত্র সংসদের পরিবর্তন প্রস্তাব বা কার্যকর করার ক্ষমতা রয়েছে। উভয় কমিশনারই যুক্তি দিয়েছিলেন যে, রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেক্টরস রুলস, ১৯৬০-এর অধীনে নির্ধারিত ফর্মটিতে ওই বিধি সংশোধন না করে কোনও পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
তবে যেসব রাজ্যে এসআইআর এখনও চলছে, সেসব রাজ্যে এখনও অনৈতিক ফর্ম-৬ চলছে। কমিশনের পোর্টালে দেখা যাচ্ছে যে, ১৩টি রাজ্যের জন্য এই ঘোষণা-ফর্মটি এখনও রয়েছে, যেখানে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, ২৬ সেপ্টেম্বরের এক বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল যে, ‘ফর্ম ৬’-এর সাথে যুক্ত এই ঘোষণাটি এখন থেকে শুধু এসআইআর চলাকালীনই ব্যবহার করা হবে।
এদিকে, বুধবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নির্বাচন কমিশনের আইটি ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন মহুয়া মৈত্র।
সমাজমাধ্যমে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ জানিয়েছেন, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করবে কি না সেজন্য ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চেয়েছে পুলিশ। বিষয়টির অগ্রগতি হয়েছে কি না, তা জানতে ৬ অক্টোবর ফের তিনি থানায় যাবেন বলে জানিয়েছেন মহুয়া মৈত্র।