গণহারে ভোটার বাদ দেওয়াটাই স্বেচ্ছাচারী: উজ্জ্বল ভুঁইয়া

47

নিউজ ডেস্ক: গোটা দেশে এসআইআর প্রক্রিয়ায় এপর্যন্ত ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এবিষয়ে মুখ খুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া। হায়দরাবাদের নালসার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বলেন, কোটি কোটি ভারতীয়কে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজের দেশেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’ বানিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া স্বভাবতই স্বেচ্ছাচারী।


বিচারপতি ভুঁইয়া বলেন, এবিষয়ে কোনও বিরুদ্ধ যুক্তিকে সমর্থনযোগ্য নয়। এধরনের প্রক্রিয়া সংবিধানের মূল ভিত্তিকে আঘাত করে। কেউ ভোট দিতে পারবে আর কেউ পারবে না, এরকম ধারণা সংবিধানে নেই। ব্যাপক হারে জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে, এমন প্রক্রিয়া ভারতীয় সংবিধানের ৩২৬ এবং ১৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করে।


বিচারপতি ভুঁইয়া বলেন, সংবিধান প্রণেতারা দেশে হাজারো প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সবার ভোটাধিকারের বিষয়ে জোর দিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত ছিল সাধারণ ভারতীয়দের প্রতি আস্থার নিদর্শন। এরপর তিনি বলেন, এক ব্যক্তি, এক ভোট নীতি হল সমতারই একটা দিক এবং সংবিধানের মূল নির্যাস। কোটিপতি এবং দিনমজুরের ভোটের মূল্য সমান। এটাই প্রমাণ করে ভোটাধিকারের শক্তি।

ভোটাধিকারকে হয়তো মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বার বার ভোটাধিকারের সাংবিধানিক চরিত্রকে স্বীকার করে নিয়েছে। তাঁর কথায়, তাত্ত্বিক ভাবে, নাগরিকত্ব এবং ভোটাধিকার একে অপরের সঙ্গে জড়িত। একটিকে অন্যটির থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না।


উজ্জ্বল ভুঁইয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠানে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ফলি নরিম্যান। তিনিও গণহারে ভোট কাটার বিরোধিতা করেন। তাঁদের মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেছেন, আইনজীবী এবং বিচারপতি, উভয় ভূমিকাতেই বিচারপতি নারিম্যান অত্যন্ত পণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিচারপতি ভুঁইয়া অন্যতম শ্রদ্ধেয় এবং স্পষ্টবাদী ব্যক্তিত্ব, যিনি কোনো অপ্রয়োজনীয় বিষয়েই ভয় বা সংকোচ বোধ করেন না। উভয়েই ভোটের গুরুত্ব কমে যাওয়া এবং ভোট বাতিলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। গণতন্ত্রে একজন সাধারণ মানুষের ওপর এর চেয়ে বড় প্রভাব আর কী হতে পারে? প্রশ্ন অভিষেক মনু সিংভির