পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: সাবেকি পুজো বললেই যে পুজোর নাম সব থেকে প্রথমে মনে পড়ে তা হল বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গাপুজো। বলা ভাল বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গাপুজো। একচালার প্রতিমা, সাবেকি মৃন্ময়ী রূপ – সে এক অসাধারণ পুজো। থিমের কোন মাহাত্ম্য নেই, কিন্তু সাবেকিয়ানায় এমন মাহাত্ম্য আছে যে তা দেখতে দূর থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা।
পুজোর জন্য স্থায়ী বেদী রয়েছে। প্রতি বছর ওই বেদীতেই একচালার প্রতিমা তৈরি হয়। এই বছর বাগবাজার সর্বজনীন এর পূজো নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। সেই জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। হাই কোর্টের নির্দেশে জটিলতা কাটার পর মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির কাজও শুরু হয়। এবার প্রথম থেকেই যেন বাঁধা এই পুজোয়। তাই বোধহয় দীর্ঘদিনের পরম্পরায় ছেদ পড়ল । দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে উত্তর কলকাতার সাবেকি এই পুজোর প্রতিমার চক্ষুদান করতেন শিল্পী খোকা পাল। কিন্তু এবার শিল্পীবদল। শিল্পী ইন্দ্রনাথ পালের হাতে দেবীর চক্ষুদান হয়েছে।
ইতিহাস ফিরে দেখলে শোনা যায় দীর্ঘদিন ধরে বাগবাজার সর্বজনীন এর প্রতিমা বানাতেন জীতেন পাল। তাঁর পর এই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন ছেলে নারায়ণচন্দ্র পাল। কিউ প্রথা মেনে দীর্ঘ ৪ দশক ধরে দুর্গার চক্ষুদান করেন শিল্পী খোকা পাল। বার্ধক্য জনিত অসুস্থতায় ভোগার কারণে শিল্পী খোকা পাল এই চক্ষুদান করতে পারেননি। তাই চক্ষুদানের শিল্পী বদল । যদিও খোকা পাল শিল্পী ইন্দ্রনাথ পাল এর কাকা। ফলে বংশ একই আছে, পাল্টে গেছে শিল্পী। ১০৮ বছরের এই প্রাচীন পুজোর গরিমা অটুট রয়েছে। পুজোর বাকি হাতেগোনা কয়েকদিন। তাই ব্যস্ত শিল্পী থেকে উদ্যোক্তারা। এবার শুধু বোধনের অপেক্ষা।