পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:অবৈধভাবে কলকাতায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নতুন উদ্যোগ কলকাতা পুলিশের। ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে, অথচ তারপরও বিদেশি নাগরিকরা থাকছেন, তাঁদের শনাক্তকরণ, যাচাই এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চালু হল নতুন বিভাগ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ডিপোর্টেশন বা এসটিএফ ডি।
অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর জন্য এবার কড়া পুলিশ প্রশাসন। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও নির্দেশ। সব মিলিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে আরও বেশি জোড় কলকাতা পুলিশের। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল কলকাতা পুলিশের নতুন দল এসটিএফডি- র।
কলকাতা পুলিশের তরফে ৪ সদস্যের একটি স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হয়েছে। দলে থাকবেন এক জন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার অফিসার এবং তিন জন ইনস্পেক্টর।
লালবাজার জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে থেকে বেশ কয়েকজন বিদেশে নাগরিক ধরা পড়েছেন, যাঁদের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়েছে বহু আগে। তবু অবৈধভাবে জাল পরিচয়পত্র দেখিয়ে তারা রয়েছেন এই দেশে। এমনকি ভারতীয় সেজে চাকরি বা ব্যবসা করছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও আফগান নাগরিকদের ক্ষেত্রেই এই প্রবণতা বেশি ।এই অবৈধ বিদেশীদের চিহ্নিত করার জন্যই নতুন বিভাগ চালু।
কীভাবে কাজ করবে এই বিভাগ? জানা গিয়েছে, একজন ডিসির অধীনে এই বিশেষ টাস্ক ফোর্সটি কাজ করবে। এই বিভাগে কলকাতা পুলিশের সিকিউরিটি কন্ট্রোলের রেসিডেন্সিয়াল পারমিট সেকশন, ইনভেস্টিগেশন সেল, ফরেনার্স ইনকুয়ারি সেকশন, ইললিগাল মাইগ্রেন্টস সেলের আধিকারিকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এই ধরনের ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও যাচাই করা হবে। ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’-সহ প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে ডিভিশনাল ডিসি, ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ এবং কলকাতা পুলিশের অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে চলবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। আইন অনুযায়ী আটক ও প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি, পুরো প্রক্রিয়ার একটি রেকর্ড বজায় রাখা হবে।
কলকাতার সব ডিভিশনাল ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তাঁরা বিদেশি নাগরিক সংক্রান্ত অমীমাংসিত মামলাগুলির তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যান ও এসটিএফ ডি-কে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন। শহরের হোটেল, গেস্ট হাউসের আবাসিকদের ক্ষেত্রে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ‘সি’ ফর্মে উল্লিখিত ঠিকানাগুলো যাচাই করার ব্যাপারটাও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এসটিএফ ডি কলকাতা পুলিশের যে কোনও বিভাগ বা শাখার সাহায্য নিতে পারবে। তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট প্রতিনিয়ত এই বিভাগ লালবাজারে পাঠাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।