কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে অভিষেককে, আদালতে তুমুল ভর্ৎসনা, ভর্ৎসনার পর মামলা প্রত্যাহার

39

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা :আদালত বারবার কন্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে । ডি জে মামলায় তাঁকে ৩১শে জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচও দেওয়া হয়েছিল । কিন্তু তারপরও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাননি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এবার কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, “কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে। সবকিছুর একটা সীমা থাকে। কণ্ঠস্বরে নমুনা না দিলে রক্ষাকবচ তুলে নেওয়া হবে। ১৫ জুলাই দুপুর ১২ টায় বিধান নগর আদালতে দিতে হবে কণ্ঠস্বরের নমুনা”

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন তুলেছেন, “কোন ক্ষমতাবলে গত ৮ জুলাই হাজিরা এড়ালেন ? কেনই বা আবার গেলেন অন্য বেঞ্চে?”

ডিজে মন্তব্য নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল, তাতে তদন্তের স্বার্থে কন্ঠস্বরের নমুনা চায় সিআইডি। কিন্তু বারবার হাজিরা এড়িয়েছেন অভিষেক। দিন নির্দিষ্ট করা হলেও কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাননি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর বক্তব্য, ওই মন্তব্য যে তিনি করেছেন, তা কোথাও অস্বীকার করেননি । সেক্ষেত্রে কন্ঠস্বরের নমুনা দিতে হবে কেন?

কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ, সিআইডি-কে তদন্তে সাহায্য করতেই হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।‌ ৮ জুলাই বিধাননগর আদালতে কন্ঠস্বরের নমুনা দিতে বলা হয়েছিল তাঁকে ।‌ হাজিরা এড়িয়ে গিয়ে ফের কলকাতা হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। আজ কলকাতা হাইকোর্টে সেই মামলা উঠলে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “আপনাকে ভয়েস স্যাম্পেল দিতেই হবে। না হলে আমি নিজেই অর্ডার রি কল করব। আপনারা আদালতকে অ্যাবিউজ করছেন। যেটা হচ্ছে, সেটা ঠিক হচ্ছে না।”

ভর্ৎসনা করে বিচারপতি বলেন, “আপনি ভয়েস দিন। ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দেওয়ার পরেও যাননি কেন? কোনও মামলাই শুনব না। সম্পূর্ণ প্রটেকশন দেওয়া হয়েছিল। তাও আপনি তদন্তে সহযোগিতা করেননি। এবার আপনি মামলা তুলে নিন। ১৫ জুলাই দুপুর ১২ টায় কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যান বিধান নগর আদালতে। “

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্যের স‌ওয়াল – “ভয়েস যে আমার, তা অস্বীকার করা হয়নি। কণ্ঠস্বর দেব না, সেটাও বলা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে কেন দিতে হবে। কারণ কন্ঠস্বর যে অন্য কারও সেটা বলা হয়নি। আমরা কখনও গোপন করিনি কিছু। মামলাকারীকে রক্ষাকবচ দিন।”
ফের এক‌ই স‌ওয়ালে বেশ বিরক্ত হন বিচারপতি ভট্টাচার্য।‌

কোনও যুক্তিই না শুনে বিরক্ত হয়ে বিচারপতি বলেন, “আপনি বাধ্য তদন্তকারী সংস্থাকে সাহায্য করতে।” অভিষেকের আইনজীবীকে বলেন, “আপনি ১০ ঘন্টা ধরে বলুন, কিন্তু আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন না।”

আদালতের নির্দেশ মেনে আগামী ১৫ জুলাই বেলা ১২টায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন তার আইনজীবী। পাশাপাশি বিচারপতির কাছে আইনজীবীর আবেদন, কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাওয়ার সময় কেউ যেন তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম না ছোঁড়ে। বিচারপতি ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ডিম ছোড়া বন্ধ হওয়া দরকার। রাজ্যকে তা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে কোন ক্ষেত্রেই কেউ যাতে ডিম না ছোঁড়ে।

গত বুধবার বিধাননগর আদালতে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাওয়ার কথা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আদালত তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান দ্বিতীয় বারও। বুধবার সিআইডি আধিকারিকেরা তাঁর জন্য দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলেন। আর তারপরেই কলকাতা হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত।