কিডনি বিকল! ভুল রিপোর্টে ক্ষোভের মুখে শিলচরের লাল প্যাথ ল্যাব

13

আহাদুল আহমেদ: শিলচর শহরের একটি নামি প্যাথ ল্যাব সেন্টার লাল প্যাথ ল্যাব। বহু মানুষ পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য সেখানে যান। কিন্তু হালে সেখানে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে যা চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো।

শিলচরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী কুমারজিৎ দেব। তাঁর দাবি, তিনি প্রায়ই মেদান্তায় যান চিকিৎসার জন্য। কিছুদিন আগেই তিনি মেদান্তা থেকে চিকিৎসা করিয়ে ফেরেন। ফেরার পথে দিল্লিতে তাঁর প্রচণ্ড জ্বর আসে। শিলচরে পা রেখেই তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি রক্ত পরীক্ষা করাতে যান শিলচরের লাল প্যাথ ল্যাবে। কিন্তু রিপোর্ট পেয়ে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম হতাশ।

কারণ, লাল প্যাথ ল্যাবের রিপোর্ট মতে, কুমারজিৎ বাবুর কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছে। ফলে চিন্তায় নাওয়া খাওয়া প্রায় ছেড়ে দেন তিনি ও তাঁর পরিবার। পরে আবার চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে দুদিন আগে তিনি অন্য আরেকটি ল্যাবরেটরিতে যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। সেখানকার রিপোর্টে তাঁর কিডনি সম্পূর্ণ সূস্থ বলে দাবি করা হয়। স্বস্তি পায় কুমারজিতের পরিবার।

রিপোর্ট হাতে পেয়ে বেজায় চটে লাল কুমারজিৎ বাবু। লাল প্যাথ ল্যাবে গিয়ে রীতিমতো কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করেন কুমারজিৎ দেব। তাঁর অভিযোগ, শিলচরের অলি গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো এমন অনেক ল্যাবরেটরি গজিয়ে উঠেছে, যারা একগাদা টাকা নিয়ে রোগীদের পরীক্ষা করে ভুল রিপোর্ট দেয়। প্রশাসনের কাছে তাঁর আর্জি, এধরনের ল্যাবগুলিকে অচীরে বন্ধ করুক সরকার।

কিন্তু প্রশ্ন হয়, এমন কর্মকাণ্ডের পর শিলচরের লাল প্যাথ ল্যাবের বিরুদ্ধে কি কোন ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন? নাকি প্রশাসনের নাকের ডগায় রমরমিয়ে চলবে লাল প্যাথ ল্যাবের মতো ল্যাবরেটরিগুলি?