নিউজ ডেস্ক: যোরহাটের ররৈয়া বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বায়ুসেনার ৫ জন জওয়ান। তাঁদের নাম ক্রমে ডানিস আলম, খেমারাম কুমারওয়াট, স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেনেন্ট শুভম কুমার এবং সার্জেন্ট জীতেন্দ্র শর্মা। দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন ফ্লাইট লেফটেনেন্ট মনোজ। ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ ভারতীয় বায়ু সেনার। সেনার তরফে শোকাকুল পরিবারকে সমবেদনা জানানো হয়েছে।

নিয়মিত অভিযানে ছিল বিমানটি। বিমানঘাঁটিতে অবতরণের সময় বিস্ফোরণ ঘটে এএন-৩২ বিমানটিতে। দু’টুকরো হয়ে যায় বিমান। ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই বিমানটি। বিমান থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ঘটনাটি বিমানঘাঁটির ভিতরেই ঘটে বলে খবর। দমকল বাহিনী এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। জারি উদ্ধারকাজ।
বিমানের সামনের অংশটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। তবে পিছনের অংশটি তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। বিমানে থাকা পাইলট ও অন্যান্য কর্মীদের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য মেলেনি এখনও। পাইলটদের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এএন-৩২ ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম নির্ভরযোগ্য কার্গো বিমান। যা মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নের আন্তোনভ ডিজাইন ব্যুরোতে তৈরি করা হয়েছিল। এই বিমানটি এএন-২৬ এর একটি উন্নত সংস্করণ। এটি বিশেষভাবে উঁচু জায়গায় ওড়ার, গরম আবহাওয়া এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী ১৯৮০-এর দশক থেকে এএন-৩২-কে কার্গোর একটি প্রধান অংশ হিসেবে রেখেছে।
সেনা, অস্ত্রশস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং ত্রাণ সামগ্রী পরিবহনের জন্য এএন-৩২ ব্যবহার করে বায়ুসেনা। এই বিমানটি হিমালয়, উত্তর-পূর্ব রাজ্য এবং সীমান্ত এলাকার মেরুদণ্ড। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল ছোট রানওয়েতেও ওড়ার ও অবতরণ করার ক্ষমতা রয়েছে। বিমানটি ৬.৭ টন পর্যন্ত পেলোড বহন করতে পারে। একবারে ৪০ জনেরও বেশি সেনা বহন করতে সক্ষম প্লেনটি।
ভারতীয় বিমান বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ১০০টিরও বেশি এএন-৩২ বিমান চালাচ্ছে। এই বিমানগুলিতে নিয়মিত আধুনিকীকরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে আধুনিক এভিওনিক্স, নেভিগেশন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এএন-৩২ ভারতীয় বিমান বাহিনীর অন্যতম নির্ভরযোগ্য পরিবহন বিমান হিসেবে রয়ে গেছে। দুর্যোগ ত্রাণ, সামরিক অভিযান এবং মানবিক সহায়তা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।