মমতার মিছিলে ধুন্ধুমার , হাজরায় ‘চোর’ স্লোগান, মেজাজ হারিয়ে কর্মীকে সপাটে চড় তৃণমূল নেত্রীর

22

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: হাইকোর্টের অনুমতিতে অবশেষে কালীঘাট তৃণমূলের মিছিল বেরোলো। কিন্তু মিছিলকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার। হাজরায় উঠল চোর স্লোগান , মাছ চোর স্লোগান । মেজাজ হারিয়ে কর্মীকে সপাটে চড় মারতেও দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বারুইপুর-কাণ্ডের প্রতিবাদে আজ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে এই মিছিল শুরু হয়। কিন্তু মিছিল কিছুটা এগোতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী।

মঙ্গলবারই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল।‌ শর্তসাপেক্ষে আদালত মিছিল করার অনুমতি দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে মিছিল শুরু হয়। কিন্তু মিছিল শুরু হতেই ছবিটা পাল্টে যায়। হাজরায় মিছিলকে কেন্দ্র করে ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। এমনকী রাস্তার একধার থেকে “মাছ চোর” গানও ভেসে আসে। উত্তেজনা সামাল দিতে গিয়ে স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। এক কর্মীকে সপাটে চড় মারতেও দেখা যায়। অভিযোগের তীর বিজেপির কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এমনকী মিছিল এ‌গোতে গেলে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করেছে কালীঘাট তৃণমূল। রীতিমতো বিজেপি এবং কালীঘাট তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

এই পরিস্থিতির জন্য পুলিশকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের কাছে আমার আবেদন, শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ওদের নিজেদের সংগঠনের জোর নেই। গুন্ডা এনে তাণ্ডব করছে। আর এগুলো ঘটছে পুলিশের সামনেই। আমি বিজেপিকে দোষ দেব না। দোষ পুলিশের। আমরা আদালতের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মিছিল করছি। কিন্তু পুলিশ তাদের ভূমিকা পালন করেনি। আইসি তো এখন বিজেপির মণ্ডল সভাপতি। এসপি জেলা সভাপতি। টোটাল ল-লেস সিচুয়েশন চলছে। পুলিশ যদি আইনশৃঙ্খলা সামলাতে না পারে ওরা আদালতের নির্দেশ অবমাননা করেছে। আমরা আবার হাই কোর্টে যাব।’’

তিনি আর‌ও অভিযোগ করেন, ‘‘আমার বাড়ির সামনে দিয়ে হাজারখানেক বাইক নিয়ে মিছিল করেছে সকালে। কারও মাথায় হেলমেট নেই। চিৎকার করতে করতে আমাকে ভয় দেখিয়েছে। তখন পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে।’’ এর পর বিজেপি সরকারকে একহাত নিয়েছেন তিনি ‘‘তোমরা কী করে সরকারে এসেছ, সেটা তো জানি। মানুষকে সুরক্ষা দাও। এমনিতে হাউস অ্যারেস্ট করে রেখেছে। আমাদের আটকে রাখছে। যেখানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে পুলিশ নেই। সকাল থেকে বালিগঞ্জ থেকে কালীঘাট পর্যন্ত ডিজে বাজাচ্ছে। মেয়েদের মারধর করা হয়েছে। ছেলেদেরও মারধর করা হয়েছে। এই পরিবর্তন বাংলা চেয়েছিল?’’

তবে তিনি এও জানিয়েছেন যে, আজকের এই ঘটনা নিয়েও তিনি কলকাতা হাইকোর্টে যাবেন।